প্রকাশিত: ১১:৫১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৭, ২০২১

মোঃ রফিকুল ইসলাম, মহাদেবপুর প্রতিনিধিঃ নওগাঁয় মাঘের হাঁড় কাঁপানো প্রচন্ড শীতে কাঁপছে মানুষজনসহ পশুপাখি জীবজন্তু। সেই সাথে শীতে বাড়ছে নানা অসুখ-বিসুখ। প্রচন্ড শীতের কারণে মানুষজনের অবস্থা হয়ে পড়েছে জুবুথুবু । শীতের দাপটে মানুষজনসহ পশুপাখি, জীবজন্তুর জীবনে নেমে এসেছে অস্বস্তি। বুধবার নওগাঁর বদলগাছিতে সকাল ৬টার সময় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রের্কড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এসময় বাতাসের আর্দ্রতার হার ছিল শতকরা ৯১ থেকে ৯৮ ভাগ। সন্ধ্যা ৬টায় ছিল শতকরা ৮৩ ভাগ। বদলগাছি আবহাওয়া অফিসের কর্তব্যরত কর্মকর্তা মোঃ হামিদুল ইসলাম মুঠোফোনে এ তথ্য জানান। তিনি আরো জানান, শীতের মওসুম শেষের সময়ে একটু শীত শীত অনুভূতি স্বাভাবিক। ঘন কুয়াশা ও উত্তরের ঠান্ডা বাতাস প্রবাহিত হবার ফলে প্রচন্ড শীত অনুভূত হচ্ছে। তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি থেকে ২৫ ডিগ্রি থাকলে মানুষের জন্য মোটামুটি নিরাপদ ও ভালো। এতে মানুষজন স্বস্তিবোধ করেন। এদিকে জেলায় গত শুক্রবার থেকে প্রচন্ড কুয়াশা ও উত্তরের বয়ে চলা প্রচন্ড হিমেল বাতাসের কারণে ব্যাপকহারে ঠান্ডা অনুভূতি হচ্ছে। শনিবার সকালে তাপমাত্রা রের্কড করা হয় ৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উত্তরের বয়ে চলা হিমেল বাতাসে প্রচন্ড ঠান্ডার সাথে ঘন কুয়াশায় জন জীবন একেবারে বিপর্যস্ত হয়েপড়েছ। বিশেষ করে জেলার বদলগাছি, মান্দা, নিয়ামতপুর, পোরশা, সাপাহার উপজেলাতে ঘন কুয়াশার জন্য সূর্যের মুখ পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। বিভিন্ন সড়ক মহাসড়কে চলাচলরত বাস, কার, মাইক্রোবাস, ট্রাক, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনগুলো ঘন কুয়াশার মধ্যে দিনের বেলাতেও আলো জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে । কর্মজীবি ও জরুরী কাজে নিয়োজিত মানুষজনকে মাঘের শীত উপেক্ষা করে হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় ঘর থেকে বের হতে এক প্রকার বাধ্য হচ্ছেন। তবে বেশির ভাগ মানুষজন বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে হতে পারছেন না। তারা ঘরে বসেই অলস দিন অতিবাহিত করছেন। বিকেল হতে না হতে ঘন কুয়াশায় সর্বত্র ছেয়ে যাচ্ছে। তাই এক রকম বাধ্য হয়ে সন্ধ্যার পূর্বেই মানুষজন ঘরে ফিরছে। রাতে ও সকাল হাঁড় কাঁপানো শীতে কাঁপছে মানুষ সহ গবাদি পশুপাখি, জীবজন্তু। বাড়ছে শীত জনিত নানা রকম অসুখ। বিশেষ করে বৃদ্ধ বয়সের লোক জনসহ শিশুরা নানা অসুখে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। তারা কোল্ড ডাইরিয়া, আমাশয়, কলেরা, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, এলার্জিজনিত বিভিন্ন অসুখে ভুগছেন। বুধবার জেলার মান্দা উপজেলায় সকাল ৯ টার সময় সূর্য সামান্য উঁকি দিলেও তার স্থায়িত্ব ছিল মাত্র ৩০/৩৫ সেকেন্ড। সূর্যের দেখা না পাওয়ায় অনেকে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। চা স্টলে, ডিমের দোকানে লোকজন হুমড়ি খেয়ে পড়েছ। শীতের কারণে লোকজন ফুটপাত ও বিপনী বিতানগুলোতে গরম কাপড় কিনছেন। শীতের ব্যাপকতায় বাজার ঘাটে লোকজনের চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে। কৃষি ও শ্রমজীবি মানুষজন পড়েছেন চরম বেকায়দায়।