স্বাধীনতার ৪৯ বছর পরেও বেহাল অবস্থা এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের।

প্রকাশিত: ৫:৫০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১১, ২০২০

ছনের বেড়া টিনের ঘর জাতি গড়ার কারিগর এমপিওভুক্ত শিক্ষক আলতাব হোসেন আজ দূরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা দেউহাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক। রয়েছে স্যারের বউ, অবুঝ ২ টি সন্তান ও বৃদ্ধ মা। কে নিবে তাদের দায়ভার? রাষ্ট্র, বেসরকারী শিক্ষক নেতৃবৃন্দ, অবসর, কল্যাণ ট্রাস্ট বোর্ডের সচিব, সদস্য? এই রকম শত শত, হাজার, হাজার লক্ষ, লক্ষ এমপিওভুক্ত শিক্ষক চাকরিরত অবস্থায়, অবসরপ্রাপ্ত হিসেবে আছে । কারণ তারা এখনো অার্থ সামাজিক মর্যাদায় পিছিয়ে। একজন এমপিওভুক্ত শিক্ষক ৩০ বছর চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার পরের মাস থেকে আর বেতন বা অনুদান পায় না। নাই কোন পেনশনের সুবিধা। আর অবসর, কল্যাণ ট্রাস্ট বোর্ডের টাকা পেতে পেতে ৩/৪ বছর সময় লেগে যায়। তখন এই অসহায় শিক্ষককে দারিদ্রতার সাথে সংগ্রাম করে বাঁচতে হয়, কখনো চিকিৎসার অভাবে, চিকিৎসা টাকার অভাবে মরতে হয়, আবার কখনো অবসর, কল্যাণ ট্রাস্ট বোর্ডের টাকা পায় না মৃত্যুর আগেও। আর চাকরিরত অবস্থায় এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের রয়েছে সরকারি বেসরকারী পাহাড় সমান বৈষম্য। আর তাই মূল বেতন, ১০০০ টাকা বাড়ি ভাড়া, ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা দিয়ে বর্তমান দ্রব্যমূল্যের বাজারে সংসার চালানো সহ ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ, বিয়েসাদি, চিকিৎসা খরচ, বৃদ্ধ মা বাবা দেখাশোনায় দিশেহারা। বছরে ২ টি ঈদের মধ্যে রয়েছে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ২৫% উৎসব ভাতা, যা দিয়ে ঈদের চাহিদা পূরণের দূরের কথা সন্তানাদির চাহিদা পূরণ হয় না। এই উৎসব ভাতা ১৬ বছর ধরে একই নিয়মে চলছে অথচ এই দেশে কত শিক্ষামন্ত্রী আসে, যায় কিন্তু এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ২৫% উৎসব ভাতার পরিবর্তন হয় না। বাংলাদেশে কেন, বিশ্বের কোন দেশে শিক্ষকদের ২৫% উৎসব ভাতা নাই, এমন কি? অন্যান্য চাকরিজীবীদের বেলায় নাই। ৩০ লক্ষ একটি লাশের পাহাড় পেরিয়ে আমরা বর্তমানে এসেছি। ২ লক্ষ মায়ের আচঁল সাজিয়ে এই দেশ, বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন, লাখো শহীদের প্রত্যাশা, বীর জননী ত্যাগের প্রতিদান এখনিই সময়। তার জন্য চাই শিক্ষা ক্ষেত্রে অধিক বিনিয়োগ করে, টেকসই উন্নয়ন করা কারণ শিক্ষা থেকে অধিক বিনিয়োগ টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারে। শিক্ষার জন্য চাই মানসম্মত শিক্ষক কিন্তু শিক্ষা ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না থাকায় আমরা তা পাচ্ছি না। কেন না শিক্ষকের বেতন কম হওয়ায় তুলনামূলকভাবে এই মহান পেশায় বেছে নিচ্ছে না। তাই বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন পূরণ, শিক্ষায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সমান অধিকার নিশ্চিত করণ,শিক্ষায় সরকারি বেসরকারী সকল বৈষম্য অবসান ঘটিয়ে মুজিব বর্ষে এমপিওভুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ চায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা মাধ্যমে।

 

মো : তোফায়েল সরকার

যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক

বাংলাদেশ বেসরকারী শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম,কেন্দ্রীয় কমিটি।