সরকারি চাকরিতে প্রবেশের আগে প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট বা মাদক পরীক্ষা করা হবে।

প্রকাশিত: ১০:২০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২১, ২০২০

                                                  ডোপ টেস্ট- প্রতীকী ছবি

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের আগে প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট বা মাদক পরীক্ষা করা হবে।

এবার সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে প্রবেশের আগে প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট বা মাদক পরীক্ষা করা হবে। এ জন্য আপাতত ২১ জেলায় মোট ২৩টি পরীক্ষা কেন্দ্র বসানোর একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। সরকারি অর্থায়নে করা এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৩ কোটি টাকা। প্রকল্পটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ইতোমধ্যে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।

২০১৮ সালের মে মাসে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে পাঠানো এক চিঠিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলে, দেশে মাদকাসক্ত ব্যক্তি সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি চাকুরিজীবীরাও এতে আসক্ত হয়ে পড়ছেন। তাই সরকারি চাকরিতে প্রবেশের আগে প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট বা মাদক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। এতে দেশে মাদকসক্তের পরিমাণ কমতে পারে।

এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ঢাকা মেট্রো দক্ষিণ) উপ-পরিচালক মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এমন প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে সরকারি চাকরি প্রত্যাশীদের ডোপ টেস্ট বা মাদক পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। কিন্তু পরীক্ষা কেন্দ্রের অভাব ও এ সংক্রান্ত কোনো বিধিমালা না থাকায় এতদিন তা বাস্তবায়ন করা যাচ্ছিল না। কিন্তু এবার এটি বাস্তবায়নে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

তিনি আরো বলেন, প্রকল্পটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ইতোমধ্যে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর এ নিয়ে একটি সভাও অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি এ সংক্রান্ত একটি খসড়া বিধিমালা ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়েও পাঠানো হয়েছে।

প্রস্তাবিত বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য পরীক্ষা দিয়ে চূড়ান্তভাবে মনোনীত হওয়ার পর তার ডোপ টেস্ট বা মাদক পরীক্ষা করা হবে। প্রার্থী তার সুবিধা অনুযায়ী মাদক পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে নমুনা দিবেন। পরীক্ষার ফলাফল ইতিবাচক হলে তিনি ওই চাকরির জন্য নির্বাচিত হবেন বলেন জানান মঞ্জুরুল ইসলাম।

                                                   সরকারি চাকরি- প্রতীকী ছবি

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আপাতত ঢাকায় তিনটি পরীক্ষা কেন্দ্র বসানো হবে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নোয়াখালী, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, খুলনা, যশোর, পটুয়াখালী, রংপুর, দিনাজপুর, ভোলা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, বগুড়া, কুষ্টিয়া, পাবনা, ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ ও রাঙ্গামটিতে একটি করে পরীক্ষা কেন্দ্র বসানো হবে। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে দেশের অন্যান্য জেলায়ও এমন পরীক্ষা কেন্দ্র বসাবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

জানা যায়, পরিকল্পনা কমিশনে যাচাই-বাছাই ও আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের পর প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক কমিশনে পাঠানো হবে। আগামী ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে।