ঢাকা, ৩০শে নভেম্বর, ২০২০ ইং | ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১৫ই রবিউস-সানি, ১৪৪২ হিজরী

শিবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাঃ সিরাজ কর্তৃক রোগীর বাবা মাকে মারধর, অবশেষে ক্ষমা চেয়ে রক্ষা, শোকজ নোটিস।


প্রকাশিত: ৬:৪০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২১, ২০২০

মো: আসাদুজ্জামান আসাদ- শিবপুর, নরসিংদী।

শিবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাঃ সিরাজ কর্তৃক রোগীর বাবা মাকে মারধর, অবশেষে ক্ষমা চেয়ে রক্ষা, শোকজ নোটিস।

নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৭ মাসের শিশু সন্তানের চিকিৎসা নিতে গিয়ে লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন তার বাবা-মা।

২১ নভেম্বর শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শিবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। ডাক্তারের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন শিবপুর উপজেলার মাছিমপুর ইউনিয়নের দত্তেরগাঁও ভিটিপাড়া গ্রামের বেনজীর আহমেদ খানের ছেলে ইলিয়াস (২৮) ও তার স্ত্রী স্বর্ণা আক্তার (২০)।

ইলিয়াস ও তার স্ত্রী স্বর্ণা আক্তারকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে ওই হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ সিরাজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে হাসপাতালে কর্তৃপক্ষের কাছে তাৎক্ষণিক অভিযোগ করেন। সিরাজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ থাকলেও অদৃশ্য এক শক্তির ইশারায় কোনো ব্যবস্থা নেননি কর্তৃপক্ষ।

তিনি প্রায় দুই যুগ ধরে একই কর্মস্থলে চাকুরি করছেন। ইতোপূর্বেও রোগীকে ভুল চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগে এবং নারী গঠিত কারনণ শিবপুর মডেল থানা তাকে আটক করে। মেডিকেল সহকারী হলেও তিনি এখন শিশুদের বড় ডাক্তার। শিশু বিশেষজ্ঞ পরিচয় দিয়ে এ হাসপাতালে তিনি শিশু রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি এলাকায় শিশুদের বড় ডাক্তার হিসেবে পরিচিত। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জেনেও অদৃশ্য কারনণ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।

ইলিয়াস জানান, আমার শিশু সন্তানের চিকিৎসা নিতে এসে প্রথমে শিবপুর সরকারি হাসপাতালে টিকেট নিয়ে সিরাজ উদ্দিন ডাক্তারের কক্ষে জমা দেই। আমি টিকেট জমা দেওয়ার সময় রোগীর টিকেট ছিল তিনটা। এক ঘন্টা অপেক্ষার পরও আমার বাচ্চার সিরিয়াল না আসায় আমি ডাক্তারের কক্ষে গিয়ে দেখি ডাক্তার মোবাইল ফোনে কার সাথে যেন কথা বলছেন এবং কক্ষে দুজন মহিলার ও বসে আছেন। তখন আমি বলছি রোগী দেখার জন্য আপনাকে আরো  স্লিপ এনে দিব।

এ কথা বলার কারণে ডাক্তার ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারতে থাকে। এতে আমার স্ত্রী বাধা দিলে তাকে তিনি কিল ঘুষি মারেন। শিবপুর সরকারি হাসপাতালে কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যাক্তি জানান, ডাঃ সিরাজ উদ্দিনের স্বভাব চরিত্র ভালো না। তারপরও তিনি কি ভাবে দীর্ঘদিন যাবত একই স্থানে চাকুরী করছেন?। কিছু দিন পূর্বেও তাকে নিয়ে সালিশ দরবার হয়েছে।

মারধরের ঘটনা অস্বীকার করে ডাক্তার সিরাজ উদ্দিন বলেন, রোগী দেখতে দেরি হওয়ায় আমার সাথে খারাপ আচরণ করলে উপস্থিত লোকজন তাকে ঘাড় ধরে আমার কক্ষ থেকে বের করে দিয়েছে। শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সাইফুল ইসলাম জানান সিরাজ ডাক্তার নন, তিনি ডাক্তারের সহকারী।

ডাক্তার না হয়ে কিভাবে তিনি নিজে রোগী দেখেন ও ব্যবস্থাপত্র দেন, এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। আজকের ঘটনায় তিনি রোগীর বাবা-মার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। এ ব্যাপারে হাসপাতাল থেকে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।