শিক্ষার মানোন্নয়নে কতিপয় প্রস্তাবনা

প্রকাশিত: ১১:০৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২১
dav

বিনিয়োগের শ্রেষ্ঠ খাত শিক্ষা আর সভ্যতা শিক্ষার ফসল। শিক্ষার অবহেলায় জাতির মেধা পচে যায়, অপরদিকে শিক্ষা মেধাকে শানিত করে। দুর্নীতি আর অবমুল্যায়নে মানহীন শিক্ষা প্রজম্মকে অথর্ব জাতিতে পরিণত করছে। মূূর্খরা শিক্ষার ব্যয়কে অপচয় মনে করে। বাংলাদেশে শিক্ষা নিয়ে দেশী ও বিদেশী চক্রান্ত চলছেই। শিক্ষায় পিছিয়ে দিতে পারলে এ জাতিকে পদদলিত করা সহজতর হবে। বিদ্যমান বৈষম্যমুলক শিক্ষাব্যবস্থা তাই প্রমাণ করে। নীতি হচ্ছে সমাজের ধনিক শ্রেণী লুটের অর্থে তাদের সন্তানদের বিলেতি শিক্ষা দিবে, নিজেরা জাতিকে মূর্খ রেখে চুটিয়ে শাসন করবে।

দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে মেধাবীদের সেবা গ্রহণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একথা বলতে দ্বিধা নেই, বিশ্বমানের শিক্ষা নিশ্চিত করা না হলে ভবিষ্যতে জাতি অস্তিত্ব হারাবে। এজন্য শিক্ষায় অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষার মানোন্নয়নের স্বার্থে শিক্ষার প্রাণ ভোমরা শিক্ষকগনকে মর্যাদাশীল করতে হবে। গুনগত মানের শিক্ষার জন্য অপরিহার্য উপাদান মেধাবী শিক্ষক। শিক্ষা জাতির আশাআকাঙ্ক্ষা বাঁ চাহিদা মেটাতে না পারলে শিক্ষকের অপরিহার্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে ওঠাই স্বাভাবিক। শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারি উদাসীনতা ও অবহেলায়-ই যে, শিক্ষকতা পেশাকে আকর্ষণীয় ও মর্যাদাশীল করা সম্ভব হয়নি তা নির্দ্বিধায় বলা যায়। অপরদিকে পেশাগত মর্যাদা রক্ষায় শিক্ষকদের মধ্যে সচেতনতাবোধ অনুপস্থিত রয়েছে। শিক্ষকদের পেশাগত দাবির পাশাপাশি শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে অধিকতর দায়িত্ব কর্তব্য পালন করাও প্রয়োজন। এটা স্বীকৃত যে, বাংলাদেশের শিক্ষাক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ অপ্রতুল। প্রতি বছর বাজেটের আকার বৃদ্ধি পাওয়ায় শিক্ষাক্ষেত্রে বরাদ্দের আঁকার বৃদ্ধি পেয়েছে মাত্র- এতটুকুই। সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষার মানোন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছে অথচ শিক্ষায় বরাদ্দ বৃদ্ধি করেনি। একথা স্বীকৃত যে, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ শিক্ষায় বিনিয়োগ সর্ব নিম্নে। স্বাধীনতার ৪৯ বছরেও ইউনেস্কোর সুপারিশ অনুযায়ী শিক্ষাক্ষেত্রে ২০% বরাদ্দ প্রদান করেনি সরকার। দাতা দেশগুলোও বাংলাদেশের শিক্ষাক্ষেত্রে সহায়তা কমিয়ে দিয়েছে, এর পেছনের কারণ শিক্ষাব্যবস্থায় সীমাহীন দুর্নীতি ও অনিয়ম। শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে আমাদের সদিচ্ছার অভাব-ই প্রকট। এর উত্তরণে সংলাপের মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করা অতীব জরুরি।

কতিপয় প্রস্তাবনাঃ
** প্রথমেই আমাদের শিক্ষার মানোন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি।
** প্রান্তিক অসচ্ছল জনগোষ্ঠীর জন্য শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
** সমতার ভিত্তিতে গ্রাম ও শহর সকলের জন্য বৈষম্যহীন একমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
** শিক্ষার মানোন্নয়নে বিদ্যমান ত্রুটি সমূহ চিহ্নিত করতে শিক্ষাবিদ ও শিক্ষক নেতৃবৃন্দের সাথে ঘনঘন সভা সেমিনার অনুষ্ঠিত করা প্রয়োজন।
** গুনগত মানের শিক্ষার জন্য উচ্চ পর্যায়ের শিক্ষা কমিটি গঠন করা প্রয়োজন।
** জাতীয় শিক্ষানীতি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।
** শিক্ষকদের শাস্তির পাশাপাশি যথাশীঘ্র শিক্ষক সুরক্ষায় শিক্ষা আইন প্রকাশ করা প্রয়োজন।
** সরকারি বেসরকারি শিক্ষকদের মধ্যে বেতন-ভাতার বৈষম্য দূর করা প্রয়োজন।
** এখন-ই সময় বুনিয়াদি শিক্ষা স্তর মাধ্যমিক অর্থ্যাৎ দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত জাতীয়করণ ঘোষণা করা প্রয়োজন।
** শিক্ষকদের বৈষম্য দূরীকরণ করে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানে অবস্থান নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
** এমপিও শিক্ষক নিয়োগে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের আদলে আলাদা কমিশন গঠন করা জরুরি।
** শিক্ষকদের সতন্ত্র বেতনস্কেল প্রদানের মাধ্যমে মেধাবীদের শিক্ষকতায় আকৃষ্ট করা প্রয়োজন।
** শিক্ষাখাতে বরাদ্দকৃত অর্থ সঠিক প্রকল্পে স্বচ্ছতার সাথে ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
** শিক্ষকদের অধিকতর দক্ষতা অর্জনে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
** অপ্রয়োজনীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জাল সনদের শিক্ষকদের চিহ্নিত করে বাদ দেয়া প্রয়োজন।
** শিক্ষার মানোন্নয়নে কাম্য পরীক্ষার্থী ও পাসের হারের বাধ্যবাধকতা বাতিল করা প্রয়োজন। (এতে যেনতেন ভাবে শিক্ষার্থীদের পাস করানোর জন্য শিক্ষকরাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে)।
** এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের সঞ্চিত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের মতো পেনশন সুবিধা দিতে হবে।

দেশের অভাবনীয় উন্নয়ন অগ্রগতিতে শিক্ষকদের অবদান অপরিসীম। অথচ ৯ বছর লুকোচুরির পর দেশে একটি শিক্ষা আইনের খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে তাও শিক্ষকদের অন্ধকারে রেখে। শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা ও সচ্ছলতা দিন জাতি দাঁড়িয়ে যাবে- ইনশাল্লাহ। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে শিক্ষায় কাংখিত বরাদ্দ এবং জাতীয়করণ সম্ভব হচ্ছে না। শিক্ষক নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনায় বসুন, জাতীয়করণে অর্থ নয়, সদিচ্ছার অভাব রয়েছে। জাতীয়করণে বিদ্যমান বরাদ্দের সাথে, প্রতিষ্ঠানের আয় যুক্ত হলে অতিরিক্ত তেমন অর্থের প্রয়োজন-ই হবে না।

মোঃ সাইদুল হাসান সেলিম
সভাপতি
বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম