শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ও অনলাইন ক্লাস এর নামে বাচ্চাদের হাতে মোবাইল তুলে দেয়ার কুফল

প্রকাশিত: ৫:০১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৩, ২০২০

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ও অনলাইন ক্লাসের নামে বাচ্চাদের হাতে মোবাইল তুলে দেয়ার ফল।
****************************
২০২০ সালে যত শিক্ষার্থী আছে ওরা শুধুই মোবাইল কম্পানির জায়ান্ট কাস্টমার। ভদ্রতা, নৈতিকতা ও কর্মক্ষম একটি প্রজন্মকে অভদ্র, অনৈতিক ও অকর্মা তৈরি করলাম। বিশেষ করে হাই স্কুল ও উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির শিক্ষার্থীরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হলো।

অনলাই ক্লাসের নামে বাচ্চাদের হাতে অভিভাবকগণ এন্ড্রয়েড মোবাইল তুলে দেয়ায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে চরম ক্ষতিগ্রস্ত করা হলো। তারা ক্লাসের উছিলায় মোবাইল হাতে পেয়ে নেট জগতের যত অনৈতিক, চরিত্র স্খলন ও কুশিক্ষার ভিডিও দেখে সময় পার করে। ভিডিও গেম একটি চরম সর্বনাশা বিনোদন। অনেক অভিভাবক বাচ্চাদের গেমে লেগে থাকাকে তেমন ক্ষতিকর মনে করে না। অথচ এটা একটি নেশা। এই নেশার কবলে পড়লে সন্তানকে কোনভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। অভিভাবক যখন বুঝতে পারে তখন সব শেষ। আর এই গেমের নেশার কারনে বাচ্চাদের কথা ও আচরণের ব্যাপক পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়। যা এই অনলাইন ক্লাসের সুবাদে ঘটে চলেছে।

নেটে অনেক ভাল ও শিক্ষনীয় ভিডিও আছে। মনের ভুলেও ঐ সব সাইডে তারা ব্রাউজ করে না। কিশোর বাতায়নের সদস্য করা হলো, যাতে কিছু শিখে কিন্তু না ঘুরেফিরে গেম, কার্টুন, ফানি ভিডিও এবং লুকিয়ে এডাল্ট ভিডিও নিয়ে সারা দিন পড়ে থাকা। অভিভাবকের চোখ ফাঁকি দিয়ে গভীর রাত্রি পর্যন্ত মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকে। এনিয়ে প্রতিটি ঘরেই অশান্তি চলছে। । শত শাসন করেও কোন প্রতিকার নেই। এ যেনে ঘরে ঘরে মোবাইল এডিক্টেড।

এ থেকে মুক্তির উপায় আমার জানা নেই। তবে বুঝতে পারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা হলে এই সমস্যা থেকে অভিভাবকগণ মুক্তি পাবে।

খন্দকার মোঃ নুরুল আমিন
সহকারী অধ্যাপক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান
সরদার আছমত আলী মহিলা ডিগ্রি কলেজ।
মনোহরদী, নরসিংদী।