শাক-সবজির অস্বাভাবিক দামে নাকাল মানুষ

প্রকাশিত: ৯:৩২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১, ২০২০

বাজারে সব ধরনের শাক-সবজির দাম নাগালের বাইরে। কম দামে কোনো পণ্যই যেন পাওয়ার সুযোগ নেই। আলুর দাম চলছে তার নিজ গতিতে। সরকারের নির্দেশনা মেনে চলছে না কেউ। এই অস্বাভাবিক দাম নিয়ে নাকাল রাজধানীবাসী।

আজ শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে দেখা যায়, গাজর ছাড়া প্রায় সব সবজি আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। বাজারে বেশিরভাগ খুচরা ব্যবসায়ী আলুর কেজি ৪৫ টাকা বিক্রি করছেন। কোনো কোনো ব্যবসায়ীকে ৫০ টাকা কেজিতেও আলু বিক্রি করতে দেখা গেছে। অথচ সরকার খুচরায় আলুর কেজি ৩৫ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে।

যাত্রাবাড়ী এলাকায় দেখা যায়, ৫০ টাকা কেজি দামে আলু বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। সেখানকার একজন ব্যবসায়ী রমজান আলী। তিনি বলেন, ‘সরকার দাম বেঁধে দিলে কী হবে? আমরা তো পাইকারি বাজার থেকে কম দামে আলু কিনতে পারছি না। বেশি দামে আলু কিনে এনে কীভাবে কম দামে বিক্রি করব?’

রমজান আলী আরো বলেন, ‘শ্যামবাজার থেকে দুই বস্তা আলু কিনেছি। প্রতি কেজির দাম পড়েছে ৪১ টাকার বেশি। এই আলু থেকে বাছাই করা আলু ৫০ টাকা বিক্রি করছি। একটু নিম্নমানের আলু ৪৫ টাকা কেজি বিক্রি করছি। বাছাই করার সময় কিছু আলু ফেলে দিতে হয়েছে। গাড়ি ভাড়া, দোকান ভাড়া, কুলি খরচ যোগ করলে আসলে আলুতে আমাদের লাভ থাকে না।’

কারওয়ান বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা আলুর কেজি ৪৫ টাকা বিক্রি করেছেন। অথচ সরকার পাইকারি পর্যায়ে আলুর কেজি ৩০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে।

সরকার-নির্ধারিত দামে আলু বিক্রি না হওয়া নিয়ে কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘এখন খুব বেশি আলু মজুদ নেই। আবার নতুন আলু উঠতে দেরি হচ্ছে। এসব কারণে আলুর দাম বেশি। এ পরিস্থিতিতে সরকার আলুর দাম বেঁধে দিলেও কাজ হবে না। বাজারে আলুর সরবরাহের তুলনায় চাহিদা অনেক বেশি। নতুন আলু আসার আগে দাম কমবে বলে মনে হয় না।’

এদিকে সবজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে গাজরের দাম প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। খুচরা বাজারে গাজরের কেজি ৫০ থেকে ৭০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। অথচ এক সপ্তাহ আগে গাজরের কেজি ১০০ টাকা ছিল। খুচরার পাশাপাশি পাইকারিতেও গাজরের দাম কমেছে।

সবজি বিক্রেতা সালাম বলেন, ‘গত সপ্তাহে এক কেজি গাজর ১০০ টাকায় বিক্রি করেছি। আজ পাইকারিতে কম দামে কিনতে পারায় ৬০ টাকা কেজি বিক্রি করছি। গাজরের মতো আরো কয়েকটি সবজির দাম কমেছে।’

কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘গত শুক্রবার ১০ কেজি গাজর ৬০০-৬২০ টাকায় বিক্রি করেছি। আজ ৩৮০-৪০০ টাকা বিক্রি করেছি। সরবরাহ বাড়ায় দাম কমেছে। কিছুদিনের মধ্যে অন্যান্য সবজির দামও কমবে বলে মনে হচ্ছে।’

এদিকে আগের মতো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে পাকা টমেটো। গত কয়েক মাসের মতো এখনো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে পাকা টমেটো। এর সঙ্গে শিম বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১১০ টাকা কেজিতে। সপ্তাহের ব্যবধানে এ সবজিটির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

গত সপ্তাহের মতো শসার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকা। তবে বরবটির দাম বেড়ে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি হয়েছে, তা গত সপ্তাহে ছিল ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে। বেগুন গত সপ্তাহের মতো ৮০ থেকে ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দাম অপরিবর্তিত রয়েছে উস্তেরও। এক কেজি উস্তে বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়।

এই সবজির পাশাপাশি বাজারে অন্য সবজিগুলোও স্বস্তি দিচ্ছে না। পটোলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়, গত সপ্তাহের মতো ঢেঁড়সের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা। তবে দাম অপরিবর্তিত রয়েছে ঝিঙা, কাঁকরোল, ধুন্দল, কচুর লতির। ঝিঙার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁকরোল ৬০ থেকে ৭০ টাকা, একই দামে বিক্রি হচ্ছে কচুর লতি।

লাউ গত সপ্তাহের মতো বিক্রি হচ্ছে প্রতিটি ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। এক হালি কাঁচা কলা বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকা। বাজারে আসা শীতের আগাম সবজি ফুলকপি ও বাঁধাকপির পিস বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩৫ টাকায়। স্বস্তি মিলছে না কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের দামেও। এক কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়। পেঁয়াজের কেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকা।

ঢাকার রামপুরা বাজারে লুৎফর রহমান নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘সবজির এত দাম হলে কী করে পারা যাবে। কয়েক মাস ধরে এমন চড়া দামে সবজি কিনতে হচ্ছে। যা বেতন পাই, তার প্রায় অর্ধেক টাকা বাজারে চলে যায়। বাসা ভাড়াসহ অন্যান্য খরচ মেটাতে গিয়ে কয়েক মাস ধরে কোনো টাকা জমা করতে পারি না। উল্টো গত মাসে এক সহকর্মীর কাছ থেকে ধার করতে হয়েছে।’

সবজির দাম নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে শাহ আলম বলেন, ‘বাজারের ভার আর টানতে পারছি না। আলু-পেঁয়াজ থেকে শুরু করে সব ধরনের সবজির দাম অস্বাভাবিক। এক-দুই সপ্তাহ না কয়েক মাস ধরে এ অবস্থা চলছে। খাওয়া কমিয়ে দিয়েও খরচের লাগাম টানতে পারছি না।’