রামগড় সীমান্তে “বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু-১” এর কাজ সমাপ্তির পথে,শীঘ্রই উদ্বোধন

প্রকাশিত: ৮:৪৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৩, ২০২১

নুরুল কবির আরমান,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধিঃ খাগড়াছড়ি সীমান্তবর্তী উপজেলা ফটিকছড়ির বাগান বাজার ও রামগড় সীমানা ঘেঁষে বয়ে যাওয়া ফেনী নদীর উপর “বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু-১” এর নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে । আগামী মার্চের ভিতর যে কোন সময়ে দু’দেশের প্রধানমন্ত্রী এ সেতু উদ্বোধন করবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।

১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সময় থেকে রামগড়ের ঐতিহাসীক পটভূমির ইতিহাস স্মরণ করে সেই ঐতিহাসীক স্থান রামগড়েই সরকার “বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু -১ “নির্মাণ করছে। এ সেতুকে কেন্দ্র করে সরকার “রামগড় স্থলবন্দর ” গড়ে তোলার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। ” এ মৈত্রী সেতু ‘ চালু হলে বাংলাদেশ ও ভারত এ দু’দেশের মধ্যে সীমান্ত বানিজ্যের প্রসার ঘটবে এবং উভয় দেশ অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হবে।

এ মৈত্রী সেতু নির্মাণের দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রকৌশলী ভারতীয় নাগরিক আশিষ দত্ত ও টীম লিডার রাম নন্দন কুমার সার্বক্ষণিক দেখবাল করছেন।এমনকি, বাংলাদেশ সীমানায় স্থানীয় বিজিবি নজরদারী করছে।
ভারতের সাব্রুম থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, এ মৈত্রী সেতুর দৈর্ঘ্য ৪’শ১২ মিটার, প্রস্ত ১৪ দশমিক ৫ মিটার এবং দুই লাইনযুক্ত। এ সেতুর নির্মাণ খাতে ব্যয় হবে ৮৮ কোটি ৫৭ লক্স টাকা।সেতু ও দুপাশের এপ্রোচ সড়ক নির্মাণ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ভারতের গুজরাটস্থ দিনেশ চন্দ্র আগারওয়াল কোম্পানী।

জানা গেছে, চলিত বছরের ফেব্রুয়ারী/ মার্চের মধ্যে সেতুর লাইট,রং সহ এপ্রোচ সড়কের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলেই উদ্বোধনের দিনক্ষন নির্ধারণ করবে উভয় দেশ । এ মৈত্রী সেতু চালু হলে বাংলাদেশ এবং ভারত বানিজ্যিক, যোগাযোগ, অর্থনীতি সহ বিভিন্ন বিষয়ে লাভবান হবে। এমনকি, দুই দেশ প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসাবে সুস্পর্ক বজায় থাকবে।

তাছাড়া, ভারত সমুদ্র পথে বিভিন্ন পণ্য পরিবহনে চট্টগ্রাম বন্দরকে ব্যবহার করতে পারবে।এতে পণ্য পরিবহনে ভারত সুবিধা পেলেও বাংলাদেশ রাজস্ব খাতে লাভবান হবে। অপরদিকে, এ মৈত্রী সেতু নির্ভর রামগড় স্থলবন্দর গড়ে উঠতে শুরু করেছে।ইতিমধ্যে স্থলবন্দর নির্মাণে মাটিভরাট ও মাটি পরীক্ষার কাজ চলছে। দক্ষিণ ভারতের ত্রিপুরার সাব্রুম, আসাম, মেজোরাম এবং বাংলাদেশের পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির রামগড়, মাটিরাঙ্গা, মানিকছড়ি,চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি,হাটহাজারী,মীরসরাই,সীতাকুন্ড সহ বৃহত্তর চট্টগ্রাম বিভাগের ১১ টি জেলা বানিজ্যিক ও অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হবে।