যোগব্যায়ামে রোগনিরাময় সম্ভব 

প্রকাশিত: ৭:১২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩, ২০২০

প্রদীপ কুমার সাহা, জেলা প্রতিনিধি, মুন্সীগঞ্জ। 

যোগ শব্দের অর্থ হল বন্ধন করা, যুক্ত করা, উন্নীত করা। যোগ শব্দটা বহুভাবব্যাপী। একটি অর্থ “মিলিত করা বা মিলিত হওয়া” অর্থাৎ সৃষ্ট জীবের ইচ্ছার সঙ্গে সৃষ্টিকর্তার প্রকৃত মিলন।

 

ভারতীয় ষড়দর্শনের অন্যতম হলো যোগ। ভারতীয় চিন্তাধারার সব কিছুর মূল হলেন ‘পরমাত্মা’। আর আমরা মানুষেরা সেই পরমাত্মার অংশ জীবাত্মা যোগে রয়েছে  সেই পথেরই নির্দেশ, যে পথে অগ্রসর হলে জীবাত্মার সঙ্গে পরমাত্মার মিলন ঘটে,  মোক্ষলাভ হয় জীবাত্মার। শ্রীমদভগবদ গীতার ৬ষ্ঠ অধ্যায়ে যোগ প্রসঙ্গে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁর পরমসখা অর্জুনকে বলেছেন-দুঃখ কষ্টের হাত থেকে মুক্ত হওয়াটাই যোগের আসল কথা। অনুভূতির রাজ্যে রাজা হলেন মন। যিনি সেই মন, চিন্তা, বিবেক আর মোহকে জয় করতে পেরেছেন তিনিই হলেন স্রষ্টার সৃষ্ট সেরা মানুষ।

 

আমাদের মুনি ঋষিরা বলেছেন, ‘শরীরমাদ্যং খলু ধর্ম সাধনম্’। শরীর রক্ষণই ধর্মের মূল সাধনা। একথা আমরা অনেকে আজ বুঝেও বুঝতে চাই না। আমরা সর্বদাই চাই সুস্থ দেহে সতেজ মন আর কর্মময় জীবন। কিন্তু অসুস্থ শরীর আর অবুঝ মন নিয়ে কর্মময় জীবন উপভোগ করা অসম্ভব। আমাদের শরীরে অনেক সময় এমন কতগুলো রোগ আসে যা ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস জনিত নয়। যা হয় সাধারণত শরীর অভ্যন্তরস্থ যান্ত্রিক গোলযোগের জন্যে! এসব ক্ষেত্রে ঔষধে হয়তো সাময়িক উপশম হয়, কিন্তু কিছুদিন পর ঐ রোগগুলোই আবার ভয়ঙ্কর রূপে দেখা দেয়। শারীরিক সুস্থ্যতা বজায় রাখতে ও শরীরের ওজনের ভারসাম্য ঠিক রাখতে যোগ ব্যায়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও শরীরের হাড়ের দৃঢ়তা বজায় রাখা, মাংসপেশীর সবলতা এবং অঙ্গপ্রতঙ্গসমূহের স্বাভাবিক চলন ক্ষমতা বজায় রাখতে ব্যায়ামের কোন বিকল্প নেই। সম্প্রতিকালে মানুষের ওজন বৃদ্ধি পাওয়া, কায়িক শ্রম ও ব্যায়াম কমে যাওয়া, মানসিক চাপ বেড়ে যাওয়া, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন হওয়ার কারণে ডায়াবেটিস নামক রোগটি মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। অনুসন্ধানে জানা য়ায় খেলার মাঠের অভাব, বিদ্যালয়ে শরীর চর্চা বা খেলাধূলা সংস্কৃতির বিলোপ, টেলিভিশন আর কম্পিউটার গেম ও ফেসবুকের ব্যাপক প্রসার, শহরে অলস জীবন যাপন, গাড়ি, লিফট, চলন্ত সিড়ি ব্যাবহারের প্রবনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ডায়াবেটিসের সংক্রমনও ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

 

সুস্বাস্থ্য বলতে আমরা বুঝি শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি উৎপন্ন করা; শ্রম ও কষ্ট সহ্য করার মতো করে শরীরকে দৃঢ় করা এবং অফুরান্ত মানসিক শক্তির অধিকারী হয়ে অনাবিল আনন্দ উপভোগ করা। বর্তমান যান্ত্রিক যুগে অধিকাংশ মানুষই জীবন যাত্রার আনন্দ থেকে বঞ্চিত। অধিকাংশ মানুষকেই বলতে শোনা যায়, কোমড় ব্যথা, অনিন্দ্রা, মাথা ব্যাথা, পেটের পীড়া ইত্যাদি। ঔষধ খেয়ে খেয়ে যারা অর্ধৈয্য হয়ে গেছেন তাদের প্রতি আহবান যোগব্যায়াম করুন সুস্থ থাকুন।

 

অনেকে বলেন সংসারে, অফিস আদালতে, খেতে খামারে কত হাড়ভাঙ্গা খাটুনি খাটছি, এতে কি ব্যায়াম হচ্ছে না? হাঁ হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু এতে প্রত্যেকটি অস্থি-সন্ধিস্থলের আভ্যন্তরীন অঙ্গপ্রতঙ্গের এবং মস্তিস্কের ব্যায়াম খুব কমই হয়। তা ছাড়া কায়িক এবং মানসিক পরিশ্রমের পর যে কষ্ট ও অবসাদ আসে তা দূর করতেই যোগব্যায়ামের প্রয়োজন। যোগ ব্যায়ামে কোন শক্তি ক্ষয় হয়না বরং শক্তি সঞ্চয়ের মাধ্যমে মানুষ কর্মোদ্যমী হয়। যোগব্যায়াম বলতে বুঝায়, “কোন একটি বিশেষ ভঙ্গিমায় কিছুক্ষন অর্থ্যাৎ ১৫ থেকে ৩০ সেকেন্ড স্থিরভাবে অবস্থান করা। যোগব্যায়ামের জন্য ৫/১০ মিনিট সময় ব্যয়ই যথেষ্ট। আজ আমাদের আশু প্রয়োজন যোগব্যায়াম শিক্ষা কেন্দ্র ব্যাপক প্রসারের। যার মাধ্যমে পেতে পারি দূরারোগ্য রোগ থেকে মুক্তি এবং হতে পারি সুস্থ্য শরীর ও সতেজ মনের অধিকারী।