মানুষ মানুষের জন্য,মানুষ মানবতার জন্য।

প্রকাশিত: ৯:০৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৮, ২০২০

“মরিতে চাহিনা আমি সুন্দর ভুবনে, মানবের তরে আমি বাঁচিবার চাই।”
আমরা মানবের তরে না হোক নিজের প্রয়োজনে হলেও বাঁচতে চাই। একজন মুমূর্ষ ব্যক্তি যখন তার মৃত্যু প্রায় আসন্ন তখনও তিনি তাকে দেখতে আসা প্রতিটি লোকের কাছে তার সুস্থতা কামনায় দোয়া প্রার্থনা করেন। কারণ তিনি বাঁচতে চান। আমরা সবাই বাঁচতে চাই। যতক্ষণ না মৃত্যু আমাদের গ্রাস করে পরপারে নিয়ে যায় ঠিক তার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত।
ভূমিকা ছেড়ে এবার মূল কথায় আসি।
জনাব আলতাফ হোসেন। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার একটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। নিজের ভিটেমাটি ও পরিশ্রমের উপার্জনই যার একমাত্র সম্বল। দুরারোগ্য ক্যান্সার ব্যধিতে আক্রান্ত। কেমোথেরাপি চলছে। মোট 12 টি কেমোথেরাপি দিতে হবে। ইতোমধ্যে আট (০৮)টি কেমোথেরাপি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। জানিনা তার ডাক্তার তাকে কি বলেছেন। দুরারোগ্য ক্যানসারে আক্রান্ত হলেও তারও রয়েছে বাঁচার স্বপ্ন দেখার অধিকার। তিনি তা দেখছেনও । তাইতো তিনি বার বার তার নিজ পেশার লোকদের অর্থাৎ আমাদের শিক্ষক সমাজের কাছে সহযোগিতার আহ্বানই নয় বরং করুন ও কাতর স্বরে সহযোগিতা প্রার্থনা করছেন। একবার নয় ; বারবার করছেন।
কিন্তু পেশাটা যখন তার শিক্ষাকতা আর দেশটা যখন আমাদের সবার প্রিয় মাতৃভুমি বাংলাদেশ তখন ন্যূনতম একটা প্রশ্নটা এসেই যায়। কারণ এদেশে শিক্ষকদের মূল্য কেবল মুখে মুখে। এমনকি রাষ্ট্রও সাংবিধানিকভাবে শিক্ষকদের সম্মান ও মর্যাদার কোনো ব্যবস্থাতো রাখেনইনি বরং এ যন্ত্রটি নিজেই সুকৌশলে শিক্ষকদেরকে বিভিন্নভাবে তাদের ন্যায্য প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করে রেখেছেন! বৈষম্যের বিশাল বড় এক পর্বত দাঁড় করিয়ে রেখেছেন!
কিন্তু রাষ্ট্রীয় যে কোনো কর্মসূচি পালনে এমনকি আয়কর প্রদানের বেলায়ও শিক্ষকদেরকে সবার সামনে টেনে নিয়ে এসেছেন।
আরেকটি পরিতাপের বিষয় হলো- এদেশে শিক্ষক সংগঠনের সংখ্যা নেহায়েত কম নয় । অর্ধশতক পূর্ণ করেছে প্রায় ।
কেউ কেউ আবার নিজেদেরকে অনেক বনেদি শিক্ষক সংগঠন হিসেবে বেশ ঘটা করেই জাহির করায় ব্যস্ত থাকেন সব সময়। এইসব সংগঠনের নেতৃবৃন্দের কেউ কেউ আবার বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সরকারের মদদপুষ্ট ও সহযোগী হিসেবে আত্ম পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ ও গর্ব বোধ করেন। তাদের কেউ কেউ আবার আমরা এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষকদের কল্যাণের জন্য প্রতিষ্ঠিত তহবিলের রক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ও করছেন। কিন্তু যখনই এদেশের শিক্ষকদের দৈন্যদশার চিত্রপ্রকাশ পায়, বিনা চিকিৎসায় শিক্ষক ও তাঁর পরিবার-পরিজন অকাল মৃত্যুতে নিপতিত হন। কিংবা অর্থের অভাবে ভিটেমাটি ছাড়া হন। এসব নির্মম ও মর্মান্তিক বাস্তবতা দেখেও কল্যাণ তহবিলের রক্ষকদের নিরব ভুমিকা বরাবরই আমাদের কোমল মনে বৃহৎ আকারের প্রশ্ন এবং কষ্টের উদ্রেক করে। আমার রক্ত ক্ষয় করা উপার্জনের টাকায় তিল তিল করে গড়া এ কল্যাণ তহবিল যদি আমার চরম দুর্দিনের সময়, দুঃখ কষ্টের সময় আমার কোন কল্যাণে না আসে তাহলে আমার মৃত্যুর পরে এই কল্যাণের টাকা কোন কাজে আসবে?
আমার কষ্টের বেতন থেকে কল্যাণের নামে জমানো টাকা আমার জীবনের কোন প্রয়োজনে লাগলো সেই করুন চিত্র বরাবরের মতো এই জনাব আলতাব হোসেনের চিকিৎসার সহযোগিতার জন্য এমন করুণ আকুতি এবং কল্যাণ তহবিল সহ শিক্ষক সংগঠনগুলোর রহস্যজনক ও নির্মম নীরবতার মধ্য দিয়ে বারবার ফুটে উঠে।
এর ব্যতিক্রম কেবল একটি শিক্ষক সংগঠনের মধ্যেই পাওয়া যায়। সেটি হলো বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম।
এ সংগঠনটি ইতোমধ্যেই তার বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটি ও নেতৃবৃন্দ হতে সংগ্রহ করে গত 6 নভেম্বর, রোজ শুক্রবার নগদ 50,000/- টাকা আর্থিক সহযোগিতা আলতাফ হোসেন ও তার পরিবারের হাতে তুলে দেন এবং অল্প সময়ের মধ্যে আরও কিছু নগদ অর্থ সহযোগিতা পৌঁছে দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
আমরা জানি এদেশে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের অসুস্থতার সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তহবিল হতে লক্ষ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। কারণ তিনি বঙ্গবন্ধুর কন্যা, মানবতার জননী, মমতাময়ী নেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা।
তাই কোন শিক্ষক যখন তাঁর রাষ্ট্রপরিচালনার সময়ে গুরুতর ভাবে অসুস্থ হন। বিনা চিকিৎসায় দিনাতিপাত করেন। তখন রাষ্ট্রের কাছে, জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশাটাও অনেক বেড়ে যায়।
সেই প্রত্যাশা থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি; মির্জাপুর টাঙ্গাইলের সহকারী শিক্ষক জনাব আলতাফ হোসেন ও তার পরিবার সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অসুখে আক্রান্ত অসহায় শিক্ষক রয়েছে যারা টাকার অভাবে চিকিৎসা নিতে পারছেন না। অর্ধাহারে-অনাহারে পরিবার নিয়ে দিনাতিপাত করছেন। তাদের জন্য আপনার মানবিক উদার মন খুলে দিয়ে আপনার তহবিল হতে চিকিৎসার ব্যয় বাবদ আর্থিক সহযোগিতা প্রেরণের জন্য বিনীত অনুরোধ মূলক আহবান করছি।
কল্যাণ তহবিলের কর্তা ব্যক্তিদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি; জনাব আলতাফ হোসেন ও তার পরিবার সহ এমনিভাবে যেসব শিক্ষক ও তাদের পরিবার চরম দুর্যোগময় সময় পারকরছেন তাদেরকে কল্যাণ তহবিল হতে আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে আপদকালীন সংকট থেকে উত্তরণের ব্যবস্থা করুন।
এটা তাদের প্রতি আপনাদের দয়া নয় এটা তাদের অধিকার এবং আপনাদের নৈতিক দায়িত্ব।
পরিশেষে দেশের সকল শিক্ষক বন্ধু ও ও বিত্তবান সুধীজনদের প্রতি বিনীত আহবান জানাচ্ছি আসুন, আমরা সবাই জনাব আলতাফ হোসেন ও তার পরিবারের পাশে আমাদের প্রত্যেকের পক্ষ হতে ন্যূনতম পরিমাণ আর্থিক সহযোগিতার হাতটি বাড়িয়ে দেই।

মো: কামরুল হাসান
অর্থ সম্পাদক
বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম ও
সহ সম্পাদক (বার্তা)
দৈনিক আমাদের ফোরাম।