বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সরকারি নিয়মে পেনশনের সুযোগ সুবিধা চাই। 

প্রকাশিত: ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৩০, ২০২০

বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সরকারি নিয়মে পেনশনের সুযোগ সুবিধা চাই। 

প্রতিটি সরকারি  পেশায় চাকরি শেষে পেনশনের সুযোগ সুবিধা আছে। অবসরপ্রাপ্ত সময়টুকুর নিরাপত্তা আছে। অন্যের ওপর নির্ভরশীল হতে হয় না। কারোর করুণায় জীবন যাপন করতে হয় না। বিপদে আপদে নিজের সুরক্ষা নিজেই করতে পারে। কিন্তু বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের দেখা যাচ্ছে, অবসরপ্রাপ্ত সময়টুকু কাটাতে হয় চরম বিপাকের মধ্য দিয়ে। নেই পেনশনের সুযোগ সুবিধা। আছে  একজন বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক অবসরে যাওয়ার পর অবসর ও কল্যান তহবিল নামে সর্বমোট ১০০ মাসের বেতন পাবে সর্বশেষ স্কেলের সমতুল্য টাকা । এর বাইরে কিছু নয়। একজন বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক   অবসরে পাবে ৭৫ মাস এবং কল্যান তহবিলে পাবে ২৫ মাস। এটাই হলো একজন বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অবসরপ্রাপ্ত সময়ের জন্য সুযোগ সুবিধা।
#শর্ত হলো – 
অবসর ও কল্যান তহবিলের পূর্ণ  সুযোগ সুবিধা পেতে হলে চাকরির সময় সীমা হতে হবে ২৫ বছর। এর বেশি হলে ক্ষতি নেই কিন্তু কম হলে
অবসর এবং কল্যান তহবিলের পূর্ণাঙ্গ সুযোগ সুবিধা পাওয়া যাবে না। কমে যাবে মাসের সংখ্যা।
#অবসর ও কল্যান তহবিলে আমরা বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা যে সুযোগ সুবিধা পাব তার  জন্য যে শর্ত তা হলো –
অবসর ও কল্যান তহবিলের সুযোগ সুবিধা পেতে হলে প্রতিটি শিক্ষকের মূল স্কেল থেকে  অবসরের জন্য কর্তন করা হবে ৬ শতাংশ এবং কল্যান তহবিলের জন্য কর্তন করা হবে ৪ শতাংশ হারে।
মূল স্কেলের কর্তন দাঁড়াল সর্বমোট (৬+৪) বা ১০ শতাংশ। যা একজন বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য মরার ওপর খাঁড়ার ঘায়ের সামিল। পূর্বে অবসর সুবিধা পাওয়ার জন্য কর্তন করা হতো ৪ শতাংশ হারে এবং কল্যান তহবিলের জন্য কর্তন করা হতো ২ শতাংশ হারে। বর্তমানে অবসর এবং কল্যান তহবিলের জন্য আরও ৪ শতাংশ হারে কর্তন করা হচ্ছে পূর্বের সুযোগ সুবিধা বহাল রেখে।  একজন শিক্ষকের মূল স্কেল থেকে ১০ শতাংশ হারে কর্তন করার ফলে সরকারি অংশের সিংহভাগ চলে যায় অবসর ও কল্যান তহবিলে। যার জন্য বেশির ভাগ শিক্ষকই এখন সংসারের ভরনপোষণে হিমশিম খাচ্ছে।
শিক্ষকদের অবসরপ্রাপ্ত সময়টুকুর হালচাল –
একজন বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক যখন অবসরে যান শেষ সম্বল বলতে থাকে শুধু অবসর ও কল্যান তহবিলের গচ্ছিত অর্থ। সেই অর্থ পেতেও একজন শিক্ষকের পথ চেয়ে বসে থাকতে হয় বছরের পর বছর। আমরা বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা এই প্রাচীন প্রথার অবসান চাই। অবসরপ্রাপ্ত সময় টুকু নিরাপদে থাকতে পেনশনের সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা চাই।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট আমাদের বিনীত অনুরোধ আপনি পেনশনের বিষয়টি সুবিবেচনা করবেন এবং বাস্তবায়নের জন্য  নিজ হস্তে  পদক্ষেপ গ্রহণ করে আমাদের চাকরি জীবনের  শেষ সময় টুকু নিরাপদে বসবাস করার ব্যবস্থা করবেন। আপনি আশা করি আমাদের সার্বিক দিক বিবেচনা করে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
চাকরি জীবনের শেষ সময় টুকু নিরাপদে থাকার ব্যবস্থা করলে আমরা আপনার নিকট চিরকৃতজ্ঞ থাকিব।
ধন্যবাদান্তে
মোঃ আবুল হোসেন
Attachments