বঙ্গবন্ধু মানেই স্বাধীনতা।

প্রকাশিত: ১:১৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২১

বঙ্গবন্ধু মানেই স্বাধীনতা।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পূর্তিতে এদেশের মানুষ যাকে সবার আগে গভীরভাবে স্মরণ করবে তিনি হলেন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধু এই শব্দ দুটি অভিন্ন  হলেও এই দুইটি শব্দের মাঝে লুকিয়ে আছে এক গভীর সংযোগ।
বঙ্গবন্ধু একজন কিংবদন্তি যিনি  এদেশের স্বাধীনতার স্থপতি। একজন বঙ্গবন্ধু এদেশে জন্মেছিলেন বলেই আজ আমাদের প্রাণের দেশটি স্বাধীন, আজ আমরা স্বাধীন। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ডাকেই বাঙালি জাতি জীবনের সব কিছু বিলিয়ে দিয়ে লড়াইয়ে নেমেছিল শুধুমাত্র পাকিস্তানি হানাদারদের শোষন ও নির্যাতন থেকে মুক্তির জন্য।
আজ বাংলাদেশের কথা বলতে গেলেই অনিবার্যভাবেই এসে যায় বঙ্গবন্ধুর কথা। যার আহ্বানে এদেশের সর্বস্তরের মানুষ আর একটি মুহুর্তের জন্যও অপেক্ষা করেনি। পাক হানাদারদের হাত থেকে মুক্তির জন্য লড়াই করেছে সংগ্রাম করেছে এবং ফলস্বরুপ আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীনতা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র।
একটি মানুষের সঠিক ভাবে জীবন-যাপনের প্রধান মাধ্যম হলো স্বাধীনতা। যখন এই স্বাধীনতাটি হুমকির মুখে পড়েছিল বাঙালি জাতির জন্য তখনই বঙ্গবন্ধু  হুংকার দিয়ে  দিয়েছিলেন স্বাধীনতার  ডাক।
বলেছিলেন সেই অমীয় বাণীটি “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম”
স্বাধীনতার ডাক দেয়ার পরে, ২৬ শে মার্চ প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষনা করলেন বঙ্গবন্ধু। আর স্বাধীনতা ঘোষনার পরপরই রাত ১ টার দিকে এই অবিসংবাদিত নেতাকে গ্রেফতার করলেন পাক হানাদারেরা।
তবুও বাঙালিকে রুখতে পারেনি পাক হানাদারেরা, বাঙালি জাতি যে দমবার জাতি নয়!
এদেশের মানুষ বুকের তাজা রক্ত বিলিয়ে দিয়ে অর্জন করেছে স্বাধীনতা। যার ফলে আজ আমরা মুক্ত, আজ আমরা একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের নাগরিক।
চলতি বছরটি স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পুর্তির বছর। আজ আর সেই কিংবদন্তি নেই, শুধু রয়েছে তার হাতে গড়া এই সোনার দেশটি ও তার আদর্শের সোনার মানুষ গুলো।
কিছু বিপথগামী সেনা সদস্যের  হাতে নির্মমভাবে শহীদ হতে হয়েছে স্বাধীনতার অগ্রাধিনায়ককে। এই পঞ্চাশ বছর পুর্তিতে সবচেয়ে বেশি মনে পড়ছে সেই মহান নেতা কে। যে বঙ্গবন্ধুর ডাকেই আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীনতা একটি সোনার দেশ। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস যে, সেই মহান নেতাকেও বাঁচতে দেয়নি পাক-দোষরেরা।
১৫-ই আগষ্ট নির্মমভাবে হত্যা করে মহান নেতাকে। সে সম্পর্কে সব কিছুই আমাদের জানা।
কেনো হত্যা করা হলো এই মহান কিংবদন্তিকে? এ দেশের মানুষের মুক্তির ডাক দেওয়াটিই কি ছিল তার অপরাধ? প্রশ্ন থেকেই যায়। আজ স্বাধীনতার পঞ্চাশটি বছর পূর্ণ হতে চলল । এভাবেই ধীরেধীরে বাড়বে দেশের স্বাধীনতার বয়স। কিন্তু এই দেশটির স্থপতি বঙ্গবন্ধু আর ফিরে আসবেনা। তবে এদেশের মানুষ বঙ্গবন্ধুকে অন্তরে ধারন করে থাকবে সর্বদা।
 বাঙালিকে দমিয়ে রাখা যাবে না , কেননা বাঙালি দমে যাওয়ার জাতি নয়।হাজারো জেল-জুলুম, হামলা-মামলা এমনকি মৃত্যুর মুখেও গিয়েছে শুধুমাত্র একটি স্বাধীনতার জন্য। হ্যাঁ, আজ আমরা স্বাধীন। এই স্বাধীনতাটি অর্জনের জন্য কত কিছুই না করেছে বাঙ্গালি জাতিকে।
 স্বাধীনতা অর্জনের সকল কিছুর মুলেই রয়েছে বাঙ্গালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
এ দেশকে গড়ার জন্য নিজের জীবন পর্যন্ত বিলিয়ে দিয়েছেন এই অবিসংবাদিত নেতা।
পৃথিবীর ইতিহাসে এমন কোনো নজির নেই যে দেশ স্বাধীনতার পরেই উন্নয়নের পাহাড় গড়েছে। কিন্তু অনন্য আমাদের এই সোনার বাংলাটি। বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন  দেখেছিলেন দেশটিকে পৃথিবীর মাঝে অধিক উন্নয়নশীল ও আধুনিক রাষ্ট্র হিসাবে গড়বে,  হ্যাঁ, দেশটি এখন সেটিই হয়েছে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরেই, উন্নয়নমুলক নানান কর্মযজ্ঞের মধ্য দিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের এই প্রাণের দেশটি।
আজ বঙ্গবন্ধু নেই,  কিন্তু বঙ্গবন্ধুর আদর্শ রয়ে গেছে, তাই প্রত্যেক ব্যক্তিরই উচিত জাতির পিতার আদর্শকে বুকে ধারন করে নিজের মাঝে সদা দেশপ্রেম জাগ্রত রাখা। এবং বঙ্গবন্ধু যেভাবে দেশকে ভালোবেসেছেন ঠিক সেইভাবেই দেশকে সর্বদা ভালোবাসা আমাদেরই সকলেরই দায়িত্ব। নবীনদেরকেও স্বাধীনতা ও জাতির জনক সম্পর্কে অগাধ ধারনা দেওয়া আমাদের সকলেরই উচিত ।
বলা বাহুল্য,নিজের দেশ হলো নিজের মায়ের মতো মা কে যেমন একজন সন্তান অগাধ ভালোবাসে ঠিক সেভাবেই প্রত্যেক সন্তানেরই উচিত দেশকে মায়ের মতো ভালবাসা।
এবং সদা বুকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ রেখে সামনের দিকে অগ্রসর হতে হবে। আমাদের দেশকে এগিয়ে নিতে হবে বহুদুর।
লেখক
মো.তামিম সিফাতুল্লাহ, শিক্ষার্থী, একাদশ শ্রেণী, বিজ্ঞান বিভাগ,
মদীনাতুল উলুম কামীল মাদ্রাসা, রাজশাহী সদর।