প্রসঙ্গ শিক্ষা ব্যাংক, বেসরকারি শিক্ষকদের কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর তহবিল

প্রকাশিত: ৭:০২ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২১

শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার সমূহের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি অধিকার। কথায় আছে, যে জাতি যত বেশি শিক্ষিত সে জাতি তত বেশী উন্নত। তাই পৃথিবীর উন্নত রাষ্ট্র সমূহ তাদের জাতীয় বাজেটের বিরাট একটি অংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্ধ করে থাকে। বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে ইতোমধ্যে নিন্মমধ্যম আয়ের দেশে উন্নিত করতে সক্ষম হয়েছে এবং অচিরেই মধ্যম আয়ের দেশে উন্নিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। এ জন্য এসডিজি বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। এসডিজি বাস্তবায়নের অন্যতম সূচক হলো শিক্ষা। শিক্ষা কে পাশ কাটিয়ে কোন ভাবেই এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে না। আর বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ হলো বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা। দেশের প্রায় ৯৭ ভাগ শিক্ষা পরিচালিত হয় বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়। বেসরকারি ব্যবস্থাপনার অন্যতম বৃহৎ অংশ হলো বেসরকারি এমপিও ভুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ত্রিশ হাজারের কাছাকাছি এমপিও ভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে যে গুলোতে প্রায় পাঁচ লক্ষ শিক্ষক/ কর্মচারী নিযুক্ত আছেন। এসব শিক্ষক/ কর্মচারীর মাসিক বেতন ভাতার শতভাগ সরকারি কোষাগার থেকে প্রদান করা হয় (যদিও সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে এর বৈষম্য আকাশচুম্বী)। এসকল শিক্ষক কর্মচারীদের মাসিক বেতন থেকে বর্তমানে বেসিকের উপর ১০% টাকা কর্তন করে শিক্ষক কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর তহবিলে জমা করা হয়। এটাকা থেকে কোন শিক্ষক অবসরে চলে গেলে তাকে তার পাওনা টাকা মুনাফাসহ নিয়ম মাফিক অবসর গ্রহনের তিন থেকে চার বৎসর পর পরিশোধ করা হয়। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক/ কর্মচারী অনেক সময় উক্ত টাকা না পেয়েই পরপারে পারি জমান যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
সরকার দেশের উন্নয়নের জন্য অনেক পদক্ষেপ নিয়েছেন, অনেক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন এবং সেগুলো বাস্তবায়ন করে দেশকে মধ্যম আয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন যা সর্ব মহলে প্রশংসিত হচ্ছে। অর্থনৈতিক ভাবে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের রোল মডেল। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা গতিশীল রাখার জন্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন তারমধ্যে ব্যাংকিং খাতকে জনগনের দোরঘুড়ায় পৌছে দিয়েছেন। সরকার ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে প্রসারিত করার জন্য বেসরকারি উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি মোবাইল ব্যাংকিংসহ সরকারি ভাবেও নতুন নতুন ব্যাংক স্থাপন করে যাচ্ছেন। তারমধ্যে অন্যতম হলো পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক, আনসার ভিডিপি ব্যাংক, কর্মসংস্থান ব্যাংক, শিল্প ব্যাংক ইত্যাদি। দেশের বিভিন্ন সেক্টরের মধ্যে শিক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বৃহৎ সেক্টর। এ সেক্টরের জনবল অন্যান্য সেক্টর থেকে পরিমাণে অনেক বেশি। তাই শিক্ষা সেক্টরের যাবতীয় অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য দেশে শিক্ষা ব্যাংক স্থাপন করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষকদের কল্যাণ ও অবসর তহবিলের সিড মানি এবং সরকার প্রদত্ত অনুদানের টাকা এ ব্যাংকের মূলধন তহবিল হিসেবে বিনিয়োগ করা যেতে পারে। তাছাড়া প্রত্যেক শিক্ষকের নিকট থেকে কল্যাণ ও অবসর তহবিলের জন্য মাসিক যে টাকা কেটে রাখা হয়,সে টাকাগুলো সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের ইনডেক্স নম্বরের মাধ্যমে অনলাইনে ডিপিএস হিসাব খুলে জমা রাখা যেতে পারে। এখানে শিক্ষকদের ইনডেক্স নম্বর হবে তাদের অনলাইন হিসাব নম্বর। তাছাড়া শিক্ষক/ কর্মচারীদের মাসিক বেতন ভাতা, ছাত্র-ছাত্রীদের বৃত্তি, উপবৃত্তি, প্রতিষ্ঠানের টিউশন ফি এর টাকার লেনদেন শিক্ষা ব্যাংকের মাধ্যমে পরিচালনা করা যেতে পারে। দেশের প্রত্যেক উপজেলায় শিক্ষা ব্যাংকের শাখা চালু করে তার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে প্রতিষ্ঠানের মাসিক টিউশন ফি, পরীক্ষার ফি, সেশন চার্জ, ফরম পূরনের ফি, রেজিষ্ট্রেশন ফি সহ অন্যান্য পাওনা বাধ্যতামূলকভাবে আদায় করা যেতে পারে। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত শিক্ষক/কর্মচারীদের বেতন ভাতা, জিপিএফ ফান্ড, হাউজ ঋণ, ইত্যাদি শিক্ষা ব্যাংকের মাধ্যমে পরিচালনা করা হলে অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে শিক্ষা ব্যাংক বাংলাদেশের একটি লাভজনক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিনত হবে। শিক্ষা ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হলে বেসরকারি শিক্ষকদের কল্যাণ ট্রাষ্ট ও অবসর তহবিল নামক দুটি প্রতিষ্ঠান(দূর্নীতি গ্রস্ত) বিলুপ্ত করা যাবে এবং নতুন করে হাজার হাজার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃস্টি হবে। তাই বাংলাদেশে অতি দ্রুত শিক্ষা ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা সময়ের দাবী। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মানবতার মা,জননেত্রী শেখ হাসিনার নিকট দেশের শিক্ষক সমাজের প্রাণের দাবী আপনি শিক্ষার প্রসারের জন্য দেশে শিক্ষা ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করে ইতিহাস সৃষ্টি করুন।
লেখকঃ
মোহাম্মদ ফজলুল হক ফকির
প্রধান শিক্ষক
রায়পুরা আর কে আর এম উচ্চ বিদ্যালয়
রায়পুরা, নরসিংদী।

সহসভাপতি
বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম
কেন্দ্রীয় কমিটি।