“পীরগঞ্জে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টার এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন”

প্রকাশিত: ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০

পীরগঞ্জ (রংপুর) রাংগা সরকার।

পীরগঞ্জে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টার এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন:

রংপুরের পীরগঞ্জে ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টার এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।

উক্ত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়াল সংযোগের মাধ্যমে প্রধান অতিথী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের মাননীয় স্পিকার ও পীরগঞ্জ উপজেলার এমপি ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন জনাব জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি, মাননীয় প্রতিমন্ত্রী,তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান ও বিশেষ অতিথীকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এরপর উপস্থিত সকলকে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টার এর উপর নির্মিত একটি ডকুমেন্টারি চলচ্চিত্র প্রদর্শন করানো হয়।

উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত উক্ত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন- জনাব মো: মোস্তফা কামাল- প্রকল্প পরিচালক, যুগ্ন সচিব, শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টার প্রকল্প; সফল উদ্যোক্তা আরমিনা আক্তার বাবলি, পীরগঞ্জ পৌরসভার সম্মানিত মেয়র ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পীরগঞ্জ উপজেলার সাধারন সম্পাদক- জনাব আবু সালেহ্ মো: তাজিমুল ইসলাম শামীম, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পীরগঞ্জ উপজেলা শাখার সম্মানিত সভাপতি এ্যাডভোকেট আজিজুল ইসলাম রাঙ্গা, পীরগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান জনাব নুর মোহাম্মদ মণ্ডল, রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রাজু, রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জনাব মমতাজ উদ্দীন আহমেদ, রংপুর জেলার পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার, রংপুর বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো: আব্দুল ওয়াহাব ভূঞা সহ আমন্ত্রিত প্রমূখ ব্যক্তিবর্গ।

বিশেষ অতিথীর ভাষণে জনাব জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন-

“আমরা শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টার সারা বাংলাদেশর ৬৪ জেলায় স্থাপন করছি।“

জাতির জনকের জেষ্ঠ্য পুত্র ক্যাপ্টেন শেখ কামালকে নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন-

“এমন একজন ব্যক্তির নামে আমরা এর (আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টার) নামকরণ করেছি, যিনি মাত্র ২৬ বছর বয়সে একজন ক্রিড়া সংগঠক, একজন সাংস্কৃতিক কর্মী, একজন রাজনৈতিক নেতা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। যার ২৬ বছরের এই কর্মময় জীবন বাংলাদেশের তরুণদের জন্য উৎসর্গ করে গেছেন। আবাহনি ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেছেন, ঢাকা থিয়েটার প্রতিষ্ঠা করেছেন, স্পন্দন ব্যাংক প্রতিষ্ঠাসহ অসংখ্য কাজ তিনি করে গেছেন।“

বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়াকে স্মরণ করতে গিয়ে তিনি পীরগঞ্জর মাটিকে রত্ন-গর্ভা হিসেবে উল্লেখ করেন। এই আইটিটি সেন্টারটি প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সুযোগ্য পুত্র বাংলাদেশ সরকারের আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের পক্ষ থেকে উপহার বলেও জানান।

তরুণদের কথা বিবেচনায় নিয়ে তিনি বলেন-

“বাংলাদেশের ৭০ শতাংশ তরুণ; যাদের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। প্রাথমিক মাধ্যমিক এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত এই মূহুর্তে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি ছাত্র-ছাত্রী পড়া-শুনা করছে। পীরগঞ্জের উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে তিনি বলেন- এখানে ০৭টি কলেজ, ১০১ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২০০’র ওপরে প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৫৭ টি মাদ্রসা, সব মিলিয়ে প্রায় লক্ষাধিক শিক্ষার্থী এখানে পড়াশোনা করছে। তাদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এই আইটিটি সেন্টার বিশাল ভূমিকা রাখবে।“

২০১০ সালে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের প্রতিষ্ঠার বিষয়ে তিনি বলেন-

“বাংলাদেশে সাড়ে ৪ হাজার ইউনিয়নে ০১জন তরুণ এবং ০১ জন তরুণীসহ মোট ২ জন করে উদ্যোক্তা কম্পিউটার নিয়ে বসবে এবং সেখান থেকে ইন্টারনেটভিত্তিক সেবা জনগণের দোড়-গোড়ায় পৌঁছে দেবে। আজ আমরা ১০ বছর পর এসে দেখতে পাচ্ছি, পীরগঞ্জের ১৫ টি ইউনিয়ন, ০১ টি পৌরসভাসহ প্রত্যেকটি উপজেলার, প্রত্যেকটি ইউনিয়নে, প্রত্যেকটি পৌরসভায়, প্রত্যেকটি সিটি কর্পোরেশনে ওয়ার্ড পর্যন্ত ৫ হাজার ৮ শত ৬৫ টি ডিজিটাল সেন্টারে ১১ হাজার তরুণ-তরুণী প্রতি মাসে ৬০ লক্ষ মানুষকে ডিজিটাল সেবা প্রদান করছে।“

তিনি মনে করেন  আধুনিক প্রযুক্তি সুবিধার কারণে এই মহমারী করোনা কালেও বাংলাদেশে ফেসবুক এবং ইউটিউবের মাধ্যমে সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ তাদের কনটেন্ট আপলোডের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে তাদের শিক্ষাকার্য চালিয়ে যাচ্ছেন। শুধু তাই নয়- আইসিটি ডিভিশনের এ টু আই প্রজেক্টের  মাধ্যমে মুক্তপাঠ, এ টু হাফ সহ সংসদ টিভিতেও তারা ক্লাশ পরিচালনা করছেন।

এছাড়াও শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে সংযোগ স্থাপনের জন্য অস্বচ্ছল পরিবারের শিক্ষার জন্য ৩৩৩ নাম্বারে ফোনকলের মাধ্যমে শিক্ষকের পরামর্শ নেয়ার কথাও জানান। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ডিজিটাল বাংলাদেশের দক্ষ কারিগর গড়ে তোলার জন্য সারারদেশে ৪০০০ ল্যাব এবং পীরগঞ্জেও ৪৪টি ল্যাব প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও তার বক্তব্যে স্থান পায়। মেয়র মহোদয়ের দাবী অনুযায়ী আগামী প্রকল্পে তিনি বাকী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতেও শেখ রাসেল ডিজিটাল কম্পিউটার ল্যাব স্থাপনের আশ্বাস প্রদান করেন।

২০১৪ সালে তিনি সজীব ওয়াজেদ জয়ের থ্রি জি নেটওয়ার্ক সম্পর্কে বলেন- ৫ টি জায়গায় ফ্রি ওয়াই-ফাই সংযোগ দেয়া হয়েছিল। তিনি দু:খ প্রকাশ করে বলেন- ০৫টি জায়গায় ওয়াই-ফাই কাজ করছেনা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন যে গোটা প্যরসভায় সম্ভব না হলেও ঐ ৫ টি জায়গায় উচ্চগতি সম্পন্ন ওয়াই-ফাই দেয়া হবে যাতে করে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকবৃন্দ সেখান থেকে ফ্রি ওয়াই-ফাইয়ের সুবিধা ভোগ করতে পরে। এই ফ্রি ওয়াই-ফাই যেন অন্য কোন সময় কাটানোর কাজে ব্যবহার করা না হয় সে বিষয়ে তিনি সকলকে অনুরোধ জানান।

বিভিন্ন সফ্‌টওয়্যারের বিষয়ে তিনি দু:খ করে বলেন- “আমরা কি শুধু এগুলো ব্যবহার করব? নিজে তৈরী করবনা”? এক পরিসংখ্যানে তিনি বলেন-

“প্রতি বছর বাংলাদেশে ০৪ কোটি মোবাইল ফোন আমদানি হয়। গত বছর বাংলাদেশে মেবাইল ফোন বিক্রির সংখ্যা ছিল সাড়ে ৩ কোটি। এর মধ্যে ০২ কোটি মোবাইল ফোনের এসেম্বেল হয়েছে বাংলাদেশ থেকে। আমাদের আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ভাইয়ের নির্দেশনা মোতাবেক মোবাইল ইমপোর্টের শুল্ক কমিয়ে মাত্র চার বছরে এ দেশে ২ কোটি মোবাইল ফোন উৎপাদিত হয়েছে, প্রায় ২ লক্ষ ল্যাপটপ উৎপাদিত হয়েছে, এবং জার্মানী-আমেরিকার মত দেশে এসব পণ্য রপ্তানী শুরু হয়েছে। এছাড়াও অনলাইন মার্কেট বাংলাদেশের অবস্থান এখন দ্বিতীয়।“

এছাড়াও চেয়ারম্যানদের এক অনুরোধে তিনি বলেন-

“আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ১৫ টি ইউনিয়নে হাই স্পিড কানেটিভিটি ইনশাল্লাহ্ হয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন- ২০২৫ সালের মধ্যে ১ লক্ষ ৭০ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ৪৩ হাজার সরকারী দপ্তরকে হাই স্পিড ফাইবার অপটিক্যালের আওতায় ইনশাল্লাহ্ নিয়ে আসা হবে।“

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় স্পিকার বলেন-

“পীরগঞ্জে একেবারে প্রথম পর্যায়ে আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টার এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলো। কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর সেখান থেকে প্রতি বছর প্রায় ২০০০ প্রশিক্ষাণার্থীকে প্রশিক্ষণ দেয়া সম্ভব। প্রশিক্ষণ পরবর্তী সময়ে তারা তাদের এই অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন উপায়ে আয় করতে পারবেন।“

ফ্রিল্যান্সিং এর সাফল্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বাংলাদেশে বৈদেশিক মূদ্রা আয়ের বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে তুলে ধরেন। বাংলাদেশে যে শুধুমাত্র শহরকেন্দ্রিক নয়, তৃণমূল পর্যায়ে এধরনের প্রশিক্ষণ দেয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে, এই বিষয়টি তিনি আইসিটি বিভাগের ইতিবাচক দিক হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি মনে করেন প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষাই হচ্ছে আগামী দিনের বিশ্বের সকল চাবি-কাঠি। তাই একেবারে প্রাথমিক পর্যায় থেকে সকল মানুষের আইসিটি বিষয়ে দক্ষতা থাকা উচিত। এছাড়াও সত্যিকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তিনি যুব ও ক্রিড়া মন্ত্রালয়, শিক্ষামন্ত্রণায়, আইসিটি বিভাগ সহ সকল মন্ত্রণালয়কে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান। পীরগঞ্জের তরুণ-তরুণীদের জন্য আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টার টি পেয়ে তিনি আনন্দের কথা জানান।

মহামারী করোনার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য তিনি পীরগঞ্জবাসীকে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশনা প্রদান করেন।

এই করোনাকালীণ সময়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পীরগঞ্জে আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টার টি সরাসরি সরে-জমিনে পরিদর্শন করার জন্য তিনি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি কে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

পীরগঞ্জবাসীর সাথে সরাসরি সাক্ষাত বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে তিনি বলেন- ভার্চুয়াল সংযোগের মাধ্যমে আগের চেয়ে আপনাদের সাথে আমার বেশি দেখা হচ্ছে। মাসে অন্তত: ২ বার কোন কোন প্লাটফর্মে আমি আপনাদের সাথে যুক্ত থাকছি।

পরিশেষে জাাতির জনক বঙ্গবন্ধু পরিবারের জেষ্ঠ্য ছেলে শেখ কামালের স্মৃতিকে স্মরণ করেন এবং  পীরগঞ্জের চাহিদাসমূহের দিকে লক্ষ্য রেখে আগামীতে উন্নয়নের আশ্বাস প্রদান করেন।