পরীক্ষা নির্ভরতা কমাতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশিত: ৮:০৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৪, ২০২০

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন,শিক্ষাব্যবস্থাকে আমরা এমনভাবে তৈরি করতে চাই যেখানে অতিরিক্ত পরীক্ষা নির্ভরতা থাকবে না। আমরা মূল্যায়ন বলতেই পরীক্ষা  বুঝি। সবার মধ্যে সনদ সর্বস্ব মানসিকতা রয়েছে। শিক্ষা একটা নিরানন্দ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে ।এখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

বুধবার এডুকেশনাল রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন আয়োজিত অভিষেক ২০২০-২২ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অনেক সময় পরীক্ষার মূল্যায়ন,অনেক সময় পরীক্ষার্থীদের মাঝে সামাজিক ও পারিবারিক চাপ তৈরি করে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ চাপ কমাতে কাজ করছে সরকার। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমরা যেন শুধুমাত্র বইয়ের মধ্যে ডুবে না যায়, শিক্ষার্থীদের সামাজিক কার্যক্রম সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এর মধ্যে নিজেদের ব্যস্ত রাখতে হবে।

এছাড়াও বিজ্ঞান শিক্ষায় টুলকিট সরঞ্জম বৃদ্ধি করার কাজ করছে সরকার ।এছাড়াও মুখস্থ নির্ভরতা কমাতে আগেই সৃজনশীল পদ্ধতিতে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে বলেও জানান তিনি।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দীপু মনি আরো বলেন, ,আমাদের অন্যতম মানসিকতা, মানবিকতা, দেশপ্রেম, আমার ইতিহাস ,পরিবেশ সবকিছু সম্পর্কে জানতে হবে।

শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার। তা না হলে শিক্ষাব্যবস্থায় হাজার পরিবর্তন করেও কোন লাভ হবে না।

শিক্ষার মান উন্নয়ন করতে গেলে শিক্ষকের নিয়োগের ক্ষেত্রে পূর্ব শর্ত হচ্ছে কি কি প্রশিক্ষণ আছে তা নিয়ে কাজ করছি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ।ডিজিটাল ক্লাসরুম নিয়ে আমরা কাজ করছি ।এছাড়াও অবকাঠামো উন্নয়নে অনেক কাজ করছি।

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমি পরীক্ষা নিয়ে যে কথা বললাম অনেক সময় পত্রিকায় ঠিক সেভাবে এলো না । অনেক সময় দু’ একটা  শব্দের পরিবর্তন হয়। সে কারণে অনেক সময় বিভ্রান্তি তৈরি হয়ে যায়।  এজন্য সাংবাদিকের বিনয়ের সঙ্গে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

দীপু মনি বলেন, জাতির পিতা বলেছিলেন, শিক্ষায় বিনিয়োগ হচ্ছে সবচেয়ে উত্তম বিনিয়োগ। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষা ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন। বিদ্যালয় জাতীয়করণের ক্ষেত্রে এজন্য আমরা বলি সেই বঙ্গবন্ধু করেছিলেন,এরপর তার কন্যা করলেন। শুধু শিক্ষায়, শিল্প, বিজ্ঞান সব জায়গাতেই একইভাবে উন্নয়ন হচ্ছে।

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি আরো বলেন, আমার শৈশব কেটেছে একটি পত্রিকায় প্রেসের  মধ্যে। এ কারণে যে কোন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকরা যখন আমন্ত্রণ জানান আমার মধ্যে অন্যরকম এক অনুভূতি সৃষ্টি হয়।