দৃশ্যমান কর্তার চেয়ে অদৃশ্যমান স্রষ্টাকে বেশি ভয় করতে হবে

প্রকাশিত: ৭:৩১ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৭, ২০২০

 

মানুষ ইচ্ছা করলেই শিক্ষা অর্জন করতে পারে৷ কম হোক আর বেশি হোক৷ সুশিক্ষা নয়ত কুশিক্ষা৷ জিপিএ উচ্চ বা নিম্ন৷ কিন্তু পরিপূর্ণ ইমানদার হওয়া বড় কঠিন ব্যাপার৷ ইমানের পূর্ণস্তরের পৌছানোর পূর্বেই কয়েকবার ইমানহারা বা ইমানের দূর্বলতা দেখা দিতে পারে৷
করোনার যতটা কুফল দেখা যায় তার চেয়ে এটি থেকে শিক্ষা পাওয়া বেশি লক্ষ্য করা যায়৷ করোনা আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে ইমানদার কত প্রকার ও ইমানের নামে ইমান দূর্বলতা মানুষের মাঝে কতটুকু বিরাজমান হয়েছে? আল্লাহর ভয়ে মসজিদে প্রবেশ না করলেও করোনার ভয়ে অনেককে মসজিদে প্রবেশ করতে দেখা গিয়েছে৷ আবার করোনার প্রকোপ নবি প্রেমিক বাংলার জমিনে তেমন দেখা না গেলে মসজিদ থেকে মানুষ দূরে সরে যাওয়া, পূর্বের চেয়ে আরো বেশি চুরি, রাহাজানি, সিন্ডিকেট দৃশ্যমান৷ এ ধরনের মুসলিমদের মধ্যে ইমানদার থাক দূরের কথা ইমানের প্রথম স্তর আছে কিনা ভাবনার বিষয়!
আবার আল্লাহর ইবাদাতের প্রসিদ্ধ স্থান মসজিদের দিকে তাকালে দেখা যায় করোনা থেকে বাঁচার জন্য নিয়ম নীতি যেন শুধু মসজিদেই মানতে হয়৷ মসজিদের প্রবেশের সময় দুইয়ের অধিক লোক ধাক্কাধাক্কি করে, গায়ে গা লাগিয়ে হেঁটে হেঁটে মসজিদে প্রবেশের জন্য হাঁটতে দেখা যায়৷ আবার অযুখানায়ও গায়ে গা লেগে বসে অযু সম্পন্ন করলেও মসজিদের ভেতর গিয়ে ৩-৬ ফুট দূরত্বে দাঁড়িয়ে করোনা আইন কৃতজ্ঞতার সাথে মানতে বাধ্য হয়৷ মসজিদে বসার মত দেশের সকল আইন যদি মানুষ মেনে চলতো তাহলে হয়ত এদেশে কোনো অপরাধ সংগঠিত হতো না৷ ”যেখানে দূর্বলতা, সেখানেই আইনের প্রয়োগ,” – এটা যেন সর্ব ক্ষমতার মালিক অদৃশ্য স্রষ্টাকে অমান্য করার মতো! শিক্ষিত লোকেরা অফিসের বসকে যতটা ভয় পায় ততটা যদি সৃষ্টিকর্তাকে ভয় পেতো তাহলে হয়ত সকলেই সুশিক্ষিত ও পূর্ণ ইমানদার হতো৷
সরকারি অফিসে বসে জনগণের টাকায় বেতন খেয়ে জনগণকে ধমক দিয়ে, হটকারিতা করে, সহজ সরল জনগণের সাথে প্রতারণা করে অবৈধ টাকা পকেটে নিয়েও মসজিদে গিয়ে কতটাই যেন আইন মানে!
বাজারে গিয়ে গায়ে গা লাগিয়ে একজনের উপর দিয়ে আরেকজন উঁকি দিয়ে দ্রব্যাদি কিনলেও মসজিদে গিয়ে স্বাস্থ্যবিধির কথাটা মনে পড়ে! স্বাস্থবিধি সর্বত্রই মানতে হবে এবং মানতে বাধ্য করতে হবে৷ সর্বত্র বাধ্য করতে না পারলে তবে কেন শুধু মসজিদেই বিদ্যমান থাকবে?
যদি আল্লাহর হুকুম ছাড়া আল্লাহর সৃষ্টির কোনো কিছুই পরিবর্তন না হয়ে থাকে, মানুষের হায়াত নির্দিষ্ট হয়ে থাকে এবং নির্দিষ্ট হায়াতের পূর্বে মানুষের মৃত্যু না হয়ে থাকে তাহলে ইমান শক্ত রেখে আল্লাহর উপর পূর্ণ বিশ্বাস রেখে চলতে হবে৷ এর ব্যতিক্রম হলেই ইমানহীনতার লক্ষণ৷
সুদ ঘুষের টাকা পকেটে নিয়ে মসজিদের সামনের কাতারে দাড়ালেও ইমানদার বলা যাবে না৷ আর যে শিক্ষায় মানুষকে সুদ-ঘুষ, অন্যায়-অত্যাচার থেকে দূরে রাখতে পারে না সে শিক্ষা কোনোক্রমেই শিক্ষা নয়; সুশিক্ষা অনেক দূরের কথা৷
শিক্ষা মানুষকে বিনয়ী, সৎ চরিত্রবান ও ভালোমন্দ পৃথক করাতে সহয়তা করে৷ যিনি সুশিক্ষিত এবং শিক্ষা যাকে অন্যায় থেকে দূরে রাখে তিনি অবশ্যই তার কৃতকর্মের দ্বারা ইমানের সর্বশেষ স্তরে পৌছতে পারেন৷
পরিশেষে বলতে হয়, দৃশ্যমান শক্তির চেয়ে অদৃশ্য স্রষ্টাকে বেশি ভয় পাওয়া এবং তাঁর নিকট জবাবদিহিতার কথা সর্বদা স্মরণ করাই ইমানকে মজবুত করে তোলে৷

লেখক- মোহাম্মদ মহসিন মিয়া
সহকারী প্রধান শিক্ষক