‘কৈশোরকালীন পুষ্টি কার্যক্রমের প্রশিক্ষণ’ ও আমার দুটি কথা-আশরাফুল ইসলাম রাংগা।

প্রকাশিত: ১১:২৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৩০, ২০২০

 ‘কৈশোরকালীন পুষ্টি কার্যক্রমের প্রশিক্ষণ’ ও আমার দুটি কথা-এ টি এম আশরাফুল ইসলাম সরকার রাংগা।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, বাংলাদেশ ঢাকা কর্তৃক প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি (যাহার স্মারক নং: ৩৭.০২.০০০০.১১০.৩২.২১৪.১৯-২৭৩, তারিখ: ২৬/১১/২০২০খ্রি.) Online Mobile Apps Adolescent Nutrition Training এর মাধ্যমে ‘কৈশোরকালীন পুষ্টি কার্যক্রম গাইডলাইন’ মোবাইল এ্যাপস এর মাধ্যমে দেশের সকল মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও অন্যান্য শিক্ষকগণকে এই প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী মহোদয় নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

সেখানে বলা হয়েছে, প্রথম ধাপে দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (সরকারি/বেসরকারী) প্রধান শিক্ষকসহ প্রধান শিক্ষক মনোনীত অন্য দুইজন সহকারী শিক্ষক এ্যান্ড্রয়েড প্রশিক্ষণ এ্যাপস Adolescent Nutrition Training ডাউনলোড পূর্বক ‘কৈশোরকালীন পুষ্টি কার্যক্রম সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রাপ্ত সনদের কপি আগামী ২৪/১২/২০২০ খ্রি. তারিখের মধ্যে স্ব-স্ব উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অফিসে প্রেরণ করতে হবে।

বিষয়টি গুরুত্বসহকারে ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করেছি। কারণ, প্রশিক্ষণ একজন শিক্ষককে দক্ষ করে তোলে। বিশেষ করে কৈশোরকালীণ পুষ্টি বিষয়ক এই অনলাইনভিত্তিক প্রশিক্ষণটির মাধ্যমে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিস্কার হয়ে তদনুযায়ী পরামর্শ প্রদান করলে কিশোর-কিশোরীরা দৈহিক মানসিক, শারীরিক, স্নায়োবিক এবং মেধা ও পেশীভিত্তিক শক্তির মাধ্যমে একদিন জনশক্তিতে রুপান্তরিত হবে। তারাই দেবে আগামী দিনের বাংলাদেশের নেতৃত্ব।

গত ২৯/১১/২০২০ খ্রি: তারিখ বিকেল তিনটায় নিবিষ্ট চিত্তে প্রশিক্ষণের সকল প্রস্তুতি নিয়ে এই প্রশিক্ষণের জন্য নির্ধারিত লিংক থেকে মোবাইল এ্যাপসটি ইনস্টল করেছি। এরপর পুষ্টি কার্যক্রমের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা সংক্রান্ত বিষয়টি সঠিক ভাবে সম্পন্ন করার জন্য রেজিস্ট্রেশন সহ বেশ কয়েকেটি ধাপ খুব সহজেই সু-সম্পন্নও হয়ে গেল। বিষয়টি তো খুবই দারুণ। তারপর বুকভরা আনন্দ নিয়ে শুরু করলাম মডিউল পর্ব। স্বাগতম অংশটি শেষ করে মডিউল ০১ –এ প্রবেশ করেছি। প্রথমে আনন্দিত হলেও পরে অতিব দু:খের বিষয় এটাই যে, গতকাল বিকেল ৩.০০ টা থেকে রাত ১ টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত অতিকষ্টে প্রথম মডিউল টি সম্পন্ন করলেও ২ নং মডিউলের সেশন ০১ -এ এসে আর কিছুতেই এগুতে পাচ্ছিনা। নেটের চাকা শুধু ঘুরছে আর ঘুরছেই। এখন পর্যন্ত ওখান থেকে পরবর্তী ধাপে যেতে পারিনি। অথচ প্রথম মডিউলে এত সুন্দর সুন্দর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সন্নিবেশিত করা হয়েছে যা দেখে এবং বুঝে পরবর্তী মডিউলগুলোতে প্রবেশ করার জন্য মন দারুণভাবে সাড়া দিচ্ছে। সত্যিই খুব গুরুত্বপূর্ণ এই অনলাইন প্রশিক্ষণটি। এটা শুধু আমাদের ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানে নয়, পরিবারের জন্যও একেবারে পারফেক্ট।

ভাবলাম এটা আমার ব্যক্তিগত কোন টেকনিক্যাল সমস্যা হতে পারে। তাই বিষয়টি জানার এবং পরামর্শ পাবার অভিপ্রায়ে “বে-শিক্ষক জাতীয়করণ আন্দোলন” নামের পেজে আপলোাড করে দিলাম। পোস্টটির মন্তব্যগুলো পড়ে দেখলাম, শুধু আমি নই, সেখানে এমন অনেক শিক্ষক মহোদয় আছেন যেনারা এই সমস্যায় ভুগছেন। অনেকে নাকি এখন পর্যন্ত মডিউলে প্রবেশ পর্যন্ত করতে পারেন নি। অনেকে আবার বেশ সময় নিয়ে এই প্রশিক্ষণ কোর্সটি সু-সম্পন্ন করেছেন। অনেকে মূল্যায়ণে আটকে আছেন। কর্তৃপক্ষের নিকট আমি বিনীতভাবে অনুরোধ করছি, এর সমাধানের উপায় কি? ভুল আমাদের, নেট কানেকশানের, সার্ভারের নাকি অন্যকিছুর। দয়া করে জানিয়ে দেবেন। আমরা সে পথেই চলতে শুরু করব।

 ভুল আমাদেরও হতে পারে। যেমন, মডিউলে প্রসেস অনুযায়ী প্রবেশ না করা কিংবা আমাদের এখনও এমন অল্পকিছু শিক্ষক মহোদয় আছেন যাদের স্মার্ট ফোন ব্যবহারে দক্ষ না হওয়া। কিন্তু যারা প্রবেশ করে আটকে আছেন তাদের সমাধানটা কি?

এবারে সার্ভারে আসি। বিভিন্ন কারণে বিশেষ বিশেষ সময়ে সার্ভার ব্যস্ত থাকতে পারে। যেমন একই সার্ভারে অনেকের সংযুক্তি থাকলে। উদাহরণস্বরুপ বলা যেতে পারে- প্রাইমারী শিক্ষক নিয়োগের ফল প্রকাশিত হলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, জেএসসি বা এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হলে বিভিন্ন বোর্ডসহ এরকম অনেক সার্ভারে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো- ঘুর্ণিঝড় ‘ফণী’- এর কারণে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ওয়েবসাইডটি ডাউন পর্যন্ত হয়েছিল। কারণ একটাই, একসাথে অনেকের প্রবেশ। সেক্ষেত্রে শিক্ষার সাথে জড়িত প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত একটি সার্ভারকে আমরা কতখানি শক্তিশালী আর সংবেদনশীল করতে পেরেছি তা আমাদের বিবেচনায় আসেনা।

আমরা অনেক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছি অফ-লাইন এ্যাপস এর মাধ্যমে। সেখানে অফলাইনে সবকিছু ইনস্টল করা থাকে। নেটের কোন বালাই নেই; তাই সার্ভারের কোন সমস্যাও নেই। সুন্দরভাবে অতিসহজে সেখান থেকে বিষয়গুলো জেনে নিয়ে মূল্যায়নে অংশগ্রহণ করে অনেকেই সফলকামও হয়েছি।

সেই অভিজ্ঞতা থেকে অতিগুরুত্বপূর্ণ এই অনলাইন ভিত্তিক প্রশিক্ষণটির মডিউল গুলো যদি অফ-লাইনে আপলোড করে নিচে আরেকটি অন-লাইন মূল্যায়ণ লিংক দিয়ে সারাদেশের উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে পাঠানো হত এবং মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস যদি এগুলোকে প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠানে ই-মেইল কিংবা অন্য যে কোন মাধ্যমে পাঠাতে পারতেন, তাহলে এই সমস্যাটা নাও হতে পারত।

যা হোক, আমি কোন ওয়েব ডিজাইনার বা আইসিটি বিশেষজ্ঞ নই। বাস্তবতা থেকে কিছেু বলে ফেললাম। আমাদের দেশে অনেক দক্ষ ও অভিজ্ঞ ওয়েব ডিজাইনার শিক্ষা সংক্রান্ত এই ওয়েব পোর্টাল গুলোর সাথে যুক্ত আছেন। শুধু বলতে চাই, চলতি সালের ডিসেম্বর মাসের ২৪ তারিখ পর্যন্ত সময় সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে। যাতে আমরা সকল শিক্ষকবৃন্দ খুব সহজেই এই প্রশিক্ষণ কোর্সটি সু-সম্পন্ন করতে পারি; সেই ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।

লেখক: শিক্ষক/কলামিস্ট

জাহাঙ্গীরাবাদ দ্বি মুখী উচ্চ বিদ্যালয়. পীরগঞ্জ, রংপুর।

মেইল: rangasarker100@gmail.com