ঢাকা, ২৭শে নভেম্বর, ২০২০ ইং | ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১২ই রবিউস-সানি, ১৪৪২ হিজরী

কর্তনের খলনায়করা বর্ধনের দাবিদার !


প্রকাশিত: ৩:৩৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১০, ২০২০

এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা এখন পর্যন্ত যা কিছু পেয়েছে সবকিছুই আন্দোলনের মাধ্যমেই অর্জিত হয়েছে। বিনা আন্দোলনে কোনো কিছুই অর্জিত হয়নি। আজকাল কিছু কিছু অর্জন নিয়ে গোয়েবলসীয় কায়দায় নির্লজ্জ মিথ্যাচার শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ৫% ইনক্রিমেন্ট ও বৈশাখী ভাতা আদায়ের ক্রেডিট নিতে কিছু কিছু শিক্ষক নেতার মিথ্যাচার আমাদেরকে হতবাক করেছে। যদিও সাধারণ শিক্ষকরা জানেন যে, বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারি ফোরামের আপোষহীন ধারাবাহিক আন্দোলন বিশেষ করে জাতীয় শহীদ মিনারে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ শিক্ষক সমাবেশ ও ২০১৮ সালের ১০ জানুয়ারি হতে ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ২০ দিনের অবস্থান ধর্মঘট এবং অনশনের মাধ্যমেই ৫% ইনক্রিমেন্ট ও বৈশাখী ভাতা অর্জিত হয়েছে। ফোরামের নেতৃববৃন্দসহ সাধারণ শিক্ষকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কুকুর-বিড়ালের সাথে প্রেসক্লাবের রাস্তায় রাত্রি যাপন না করলে এতবড় অর্জন অধরাই থেকে যেত। ফোরামের অনশন চলাকালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি প্রেসক্লাবের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ৫ % ইনক্রিমেন্ট ও বৈশাখী ভাতা দেয়ার ব্যাপারে সরকারের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন এবং ফোরাম নেতৃবৃন্দকে অনশন কর্মসূচির ইতিটানার পরামর্শ দিয়েছিলেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধির পরামর্শেই মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা সেকশনের সচিব মহোদয়গণ অনশন ভাঙ্গাতে এসে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সামনে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, অচিরেই এমপিওভুক্ত শিক্ষকদেরকে ৫% ইনক্রিমেন্ট ও বৈশাখী ভাতা প্রদান করা হবে। ফোরাম ছাড়া কোনো সংগঠনের সামনে সরকারের কোনো প্রতিনিধি ৫% ইনক্রিমেন্ট ও বৈশাখী ভাতা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেয়নি। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ৫% ইনক্রিমেন্ট ও বৈশাখী ভাতা দেয়ার ঘোষণা দেন। ফোরাম মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়ে সারা বাংলাদেশে আনন্দ র্যালিও করেছে। এই অর্জন এমপিওভুক্ত শিক্ষকদেরকে জাতীয়করণের কাছাকাছি নিয়ে গেছে। আজ ৪% কর্তনের কারিগররা ৫% ইনক্রিমেন্ট ও বৈশাখী ভাতার ক্রেডিট নিতে অসততার আশ্রয় নিচ্ছে। আপনাদের নিশ্চয় জানা আছে যে, ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ২০১৩ সালে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ১০০ টাকার বাড়ি ভাড়াকে ৫০০ টাকায় উন্নীত করেছিল এবং ১৫০ টাকার মেডিকেল ভাতাকে ৩০০ টাকায় উন্নীত করেছিল। পাঁচ বছরের শাসনামলে তৎকালীন সরকারের কাছ থেকে শিক্ষদের অর্জন ছিল ৫৫০ টাকা মাত্র। কারণ শিক্ষকদের দাবি- দাওয়া নিয়ে তখন কোনো দৃশমান আন্দোলন হয়নি। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে মাধ্যমে আওয়ামীলীগ ফের সরকার গঠন করলে দৃশ্যপট পাল্টে যায়। শিক্ষকরা বিভিন্ন বৈষম্য নিয়ে অনলাইন ও অফলাইনে সরব হতে থাকে। ফলে ২০১৬ সালের জুলাই মাস থেকে ৫০০ টাকার বাড়ি ভাড়াকে ১০০০ টাকায় এবং ৩০০ টাকার মেডিকেল ভাতাকে ৫০০ টাকায় উন্নীত করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে প্রেসক্লাবের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ৫% ইনক্রিমেন্ট ও বৈশাখী ভাতার ঘোষণা দেয়া হয়। এক পিরিয়ডে পেয়েছেন ফিক্সড ৫৫০ টাকা আর আরেক পিরিয়ডে ফিক্সড ৭০০ টাকা এবং ৫% ইনক্রিমেন্ট ও বৈশাখী ভাতা। এর কারণ ফোরামের হার না মানা আপোষহীন ধারাবাহিক আন্দোলন। আসুন, ফোরামকে শক্তিশালী করে জাতীয়করণের দাবিকে ত্বড়ান্বিত করি।

উপাধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী
আহবায়ক
বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষক কর্মচারি ফোরাম
যুগ্ম মহাসচিব
বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারি ফোরাম।