“কবি আব্দুল কুদ্দুছ এর কবিতাগুচ্ছ”

প্রকাশিত: ৪:৪৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৩, ২০২০
Exif_JPEG_420

*কবি আব্দুল কুদ্দুছ এর কবিতাগুচ্ছ*

“কবিতার নাম- প্রিয় অনুরাধা”

কেন পারো না ওগো সইতে
তোমার সাথীর নীল খামের
 বিষের হুলি বইতে  
আমায় তা তুমি গহন  
বেলায় কইতে।
আমার নিঠুর হিয়ার প্রিয়া
বুঝাবো তোমায় কিদিয়া
কত যে তোমায় আমি  
ভালোবাসি হৃদয়ের মমি
আমার প্রেয়সী নিদারুণ প্রিয়া।
মুছ আঁখিজল  ভুলো তারে
একেবারে জনমের তরে
একাকী ঘরে রবে পড়ে
তবুও পিছনে নাহি চাহিবে 
 আর দুয়ার তব বন্ধ করে
রহো তবুও তাহাতে 
 আর নয় প্রিয়।
প্রিয় অনুরাধা হৃদয়ের  
স্পন্দন  ভয়কে করে 
এগিয়ে জয়
আগামীর গীতিকা আসবে  
তোমাতে নিশ্চয় প্রিয়!
                == )( ==

“কবিতার নাম- জীবনের শেষান্তে”

আমার হৃদয় আকাশের
দিগন্তরেখার শেষপ্রান্তে 
যেখানে জীবনের আলোছায়ারা 
 মিতালী করে
ভালোবাসারা অহরহ 
 খেলা করে
আমার মনের অজান্তে।
হৃদয়ের দুয়ার খুলে
আমার একাকীত্বরা 
দিকপথ ভুলে
পথ চলে আমার একান্তে।
নিরাশার অসহায়ত্বের   
ছায়াগুলো ক্ষীনালোকে
একাকী সরে যায়
আগামীর পথ চলায়
পূর্ণালোকের  মায়ায়
রেখে যায় থেকে যায়
আমাদের ভালোবাসা
জীবন চলার প্রিয় সব  
আলো আশারা
আমাদের করে  শুধু 
জীবনের শেষপ্রান্তে।
             == )( ==

“কবিতার নাম – আমিও চাই”

ওগো রংধনুর বর্ণালী আকাশ
আমিও চাই তোমার মত করে
প্রিয় মনের বুকে 
 জায়গা করে নিতে।
ওগো সমুদ্রের উড়ন্ত গাংচিল
আমিও চাই তোমার মত করে
ঐ নীল সাগর বুকের উর্মিমালায়
উঠানামায় হেসে হেসে  
ভেসে যেতে।
ওগো পাহাড়ের ঝর্ণাধারা
আমিও চাই তোমার মত করে
ঐউঁচু পাহাড়ের  ঘাত থেকে
জীবনের স্রোতধারায়
কষ্টের পাথরগুলো সরিয়ে 
 বয়ে যেতে।
ওগো বায়ুর নাইট্রোজেনের অক্সিজেন 
আমিও চাই তোমার মত করে
আমার প্রিয়মনে
ভালোবাসার যায়গা করে নিতে।
ওগো জলে ভেসে চলা যতসব 
 জলযান গুলো
আমিও চাই তোমাদের মত করে
আমার প্রিয় মানুষের   
হৃদয় জলে
ভালোবাসার জলকেলি করে
সাঁতার কাটতে।
ওগো বসুন্ধরার বাগানের প্রস্ফুটিত 
  পুষ্পগুলো
আমিও চাই তোমাদের মত করে
আমার হৃদয়ীশ্বরের কাননে
বসন্তের পুষ্প হয়ে  
ফুটে থাকতে।
ওগো ধরার বুকের গর্ভাশয়ের পরিণতি  
ফলগুলো
আমিও চাই তোমাদের মত করে
আমার ভালোবাসার  
মানুষের ধরায়
আমার জীবন গর্ভাশয়ের  
শেষফল হয়ে
একসাথে সমাধি পেতে।
                 == )( ==

“কবিতার নাম—মনের মাঝে একটা তুৃুমি এসো”

আমার শূন্য মনে চাই  তোমার মতএকটা তুমি
যে তুমি ভালোবাসার গল্প শুনাবে একটু দামী
সে তুমি আমার মন রাংগাবে আবীরে
ভালোবাসার পলাশ রক্তিম  অতি ভোরে।
আকাশের তারা সে তুমি আমার হৃদয়ে জ্বলবে
বাতাসের রজনী গন্ধার গন্ধবিলাসে মিষ্টি  ঝড়াবে
জ্বালবে এমনে আশার আলো তুমি আঁধার  ঘুচিয়ে
ভালোবাসার একটা তুমি হয়ে আগামীর ভোর হয়ে।
বলবে প্রেমের আলোময় রুপকথার কোন গল্প কথা
চলবে মৃদু পায়ে তুমি পরীর দেশের  ফুলেল যেথা
শরতের মেঘমালার বেলায় তুমি সাদা কাশবনে
রাতে ফোঁটা শিউলিফুলের ঝড়া গাঁদা তুমি মৌবনে।
হেমন্তে এসো তুমি আমার মনের কোয়াশা চাদরে
শীতের কনকনে ঠান্ডায় জড়িয়ে  নিও এই আমারে
বসন্তের কোকিল পুষ্প কানন গানের মেলা ফুলে
এসো প্রিয় একটা তুমি আমার হৃদয় বাসর নীলে।
                              == )( ==

“কবিতার নাম-  কোন গ্রহের জানোয়ার ধর্ষক?”

কে তুমি নারী ধর্ষক বর্বর?
কি তোমার পরিচয় বাস ঘর
তুমি কি মানুষ না হিংস্র জানোয়ার
নাকি প্রকৃতির  কোন বিষাধার
ভিন গ্রহের  উত্তপ্ত
কোন গলিত লাভা
কিংবা নর্দমার কোন কীট
জলাধার শোভা
নাকি ক্ষুধার্ত কোন
মানুষ খেকো পশুরুপী
বহুরুপী চরিত্রহীন
কোন লম্পট পাপী তাপী।
তোমার গাঁয়ে  রয়েছে মানুষ নয়
পশুর ডোরাকাটা স্পট দুর্গন্ধ ময়!
তানাহলে তুমি কি করে
কোন নারী শিশুকে ধরে
কর অপমান নির্যাতন ধর্ষণ
অত্যাচার ব্যভিচার আমরণ।
পরিচিতা নারীকে প্রেমের ফাঁদে
কোন আশ্রিতা বাদী দাসীও কাঁদে
তোমাদের অত্যাচার  নির্যাতনে
সংসারে কাঁদে  নারী
নিরব অপমানে।
হায়রে চরিত্রহীন অমানুষ
হায়েনার দল
ধর্ষকপুরুষ নামের
কুৎসিত মনা সকল
ধিক তোমাদের শিক্ষার নামে
কুশিক্ষিত বস্তাপচা
সনদের খামে
কি করলে তুমি
মনুষ্যত্বের অর্জন?
যে শিক্ষা তোমার
ধর্ষণে করলে বর্জন!
আহারে! তোমার
সামাজিকতার উন্মাদনা
যে সামাজিকতার পোষাক
তোমায় দেয়না
মা বোন স্রীকুলবধুর মত
কোন মর্যাদা
প্রতি পদে পদে ভালোবাসার
নামে করে অমর্যাদা
যৌন নিপীড়ন  হয়রানী
নির্যাতন করে
আহারে! নারীর সে
কি ভালো বাসারে!
তবে কেন হে নারী
প্রতিটি ঘরের
স্রী কন্যা জায়া বধু
মাতা ঝিয়ারী পরের!
নিজের দেহরে
করনা হেফাজত
ধর্মীয় অনুশানেরে
মেনে যথাযথ।
কেন তবে নারী
ভালোবাসােরে
যার সমন্ধ রবে
হৃদয় গভীরে।
তারে তুমি দাও প্রশ্রয়
নিজের করে পেতে
দাও তারে দেহে  আশ্রয়
আনন্দের তরে।
বিলিয়ে দাও সুন্দর দেহটারে
প্রিয় নামের সংগী দ্বারা
হয়ে অপবিত্র
কর কলংকিত
পিতামাতা পরিবারের সবারেই।
                   == )( ==

“কবিতার নাম- ভালোবাসার কারা গারে বন্দী”

আমাদের আত্নাগুলো  
বানিয়ে প্রভু
রেখেছিলেন বন্দী  
আত্নার জগতে।
মাবাবার মিলন জামিনে
তিনি পাঠালেন
মায়ের অন্ধকার উদরে
নয় মাসের কারাবাসে
মুক্তি মেলে ভবে
উদর কারাগার হতে।
শিশু রুপী আমরা সবাই
পূর্ণ  স্বাধীন নই
মাবাবার দয়া নিয়া তবে
আমরা সবাই হাঁটি  কথা কই
এ মর্তের পৃথিবীতে। 
মায়ের লালনে বাবার পালনে
হই ক্রমে বড় দেহধারী
ভূতলের প্রয়োজনে
জীবনের শৈশর প্রাতে।
পিতামাতার শাসনে আদরে  
মানুষ হওয়ার ছবক পাই সবে
আত্মীয় প্রিয় স্বজনের
যতন আদরে বেড়ে উঠি
আমরা সবাই  তবে 
এ ই আমাদের বড় হতে।
বয়স বেড়ে বড় দেহে
জাগে প্রেম ভালোবাসা
মনে জাগে পীরিতি আশা  
সর্ব জনের যৌবন দেহে 
নিজেরাই তাদের হতে।
যুবক যুবতী হাত ধরে
প্রেমের কথা বলে
প্রেম পেয়ে খুশী মনে
ভেসে হেসে চলে 
আর চায় ভালোবাসা পেতে।
এ চলার মধ্য বেলায় তারা
তাদের স্বউদ্যোগেই
জীবনের কারাগার তৈরী করে
শুভ উদ্বোধন তাদের জীবনে
বিয়ে করে বাসর রাতে।
বিয়ের পরে আমরা সবাই  
বন্দী হয়ে স্রীর কারাগারে
জীবন বাগানের প্রতিটি 
পদক্ষেপে প্রতিটি ঘরে
চাই তাকে খুশী করতে।
পৃথিবীর  কত শত বীর বাহাদুর 
হেরে ফিরেছে
নিজ নিজ স্রীর কাছ হতে
দিন শেষে বীর পুরুষেরা
বাইরের সকল বাহাদূরী করে
ছেড়ে ছুড়ে  ঘরে ফিরে
হয় স্রীকে হেরে খুশী করতে।
ক্ষনিকের কারাগার  
এধরা হলেও
ভালো কিছু তার 
পেতে হলেও
আলো আঁধার জীবন পেলেও 
নিজের মতো করে তার
জীবন স্বপ্ন কে হয়মিটাতে।
চাই আমাদের মুক্ত বিচরণ  
আগামীর পথে  
আমাদের জীবন সাজাতে
এধরার কারাগারের 
আমরা সবাই একই পথে
ভালোবাসার বাধনে বন্দী
এ পৃথিবীর আমরা হতে।
মধুময় জীবন পেতে
আমাদের প্রতিনিয়ত  
 হয় সংগীর সাথে
জীবন স্বপ্নের মহা সন্ধি 
পৃথিবী জীবনটাকে 
সুখের স্বর্গ গড়তে।
               == )( ==

“কবিতার নাম- আমিতো এসেছি প্রেমের গল্প শুনাতে”

আমিতো এসেছি একটি প্রেমের স্বর্গ গড়ার গল্প শুনাতে
আমিতো এসেছি ভালোবাসায় তোমার মনের বাসর রাঙ্গাতে।
আমি তো এসেছি আগ্রার তাজমহলের কারুকাজ দুয়ার হতে
যেন তোমাকে  আমার প্রেমের সমাধির কথা জানাতে পারি।
  
আমি তো এসেছি পারস্য  থেকে শিরী -ফরহাদের কথা বলতে
যেন তুমি তাদের প্রেমের কাহিণী শুনে  আমাকে পারো ভালোবাসতে।
আমি তো এসেছি নীলনদের মিশর থেকে তোমাকে প্রেমের কথা বুঝাতে
যাতে  ইউসুফ জুলেখার প্রেমের কাহিনী  শুনে আমায়  পারো ভালোবাসতে
আমি তো এসেছি  আরবের  মজনু পাগলের লাইলীর কাছ থেকে
তোমাকে তাদের প্রেমের  অমর কাহিনী  আমাদের মত করে শুনাতে।
আমিতো সিলেটের  মহুয়া সুন্দরীর  কাছ থেকে তোমাকে বলতে এসেছি 
যাতে তুমি আমার গল্প বুঝে শক্রদমনে আমাকে বলতে পারো  দুঃখ ব্যাথা।
দিল্লীর সম্রাট  জাহাঙ্গীর থেকে এসেছি প্রেমের মুকুট বিজয়ের কথা বলতে
নূরজাহানের ভালোবাসা পাওয়ার জন্য    সিংহাসন ছাড়ার কথা  বলতে। 
আমিতো মথুরার বৃন্দাবন থেকে এসেছি তোমায় রাধাকৃষ্ণের কথা বলতে
যাঁরা নিজেদের ভালোবাসার টানে  সম্পর্ক ভুলে প্রেম লীলা করেছিলো।
আমি তো বাংলার  আলপথ মেঠোপথ ঘুরে প্রেমের কাহিনী খুঁজে  এসেছি
যেখানে কাহিনী  হয়ে মধুৃমালা মদনকুমার বেহুলা লক্ষীন্ধর নামে আছে। 
আমি তো  জান্নাতুল ফেরদৌসের  বসবাসকারীদের সুখ দেখে এসেছি
যেন আমি তোমায় ভালোবেসে মন রাংগিয়ে সে জীবন এনে দিতে পারি।
আমি তো এসেছি তোমার ভালোবাসার  স্বর্গ পেতে দুঃখের নরক পেরিয়ে
আর তোমার মনের স্বর্গ গড়ে  আগামীর পথে স্বর্গোদ্যানে বসবাস করতে।
                                                == )( ==

“কবিতার নাম- ভালোবাসার শক্তিই চির মহান”

তোমার ভালোবাসা পাওয়ার মত
এভারেস্ট  জয়ের পাওয়াও তত নয়
সমুদ্রের  বিশাল জলরাশিও  
তোমাকে পাওয়ার মত বিশাল নয়।
যদি বাতাসের প্রচন্ডতার  
ঘুর্ণি ঝড়ও হয়
তবুও তোমার ভালোবাসার 
 মধুরতার মত  
তত ভয়াল কিছু নয়।
যদি ভূমিকম্পও পৃথিবী  
ধ্বংস করে দেয়,
তবুও তোমার হৃদয়ে  
আমার ঠাঁই  পাওয়ার মত
  অত আবেগীয়  ভূমিকম্প নয়।
যদি সাহারার মরুভূমিও
পাড়ি দিতে হয়
তবুও তোমাকে পাওয়ার কাছে  
সে সব পাড়ি দেওয়া 
 একেবারেই তুচ্ছ হয়। 
যদি আকাশের বজ্রাঘাতও  
হানা দেয় পৃথিবীতে
তবুও ভালোবাসার কাছে
সেসব একবারেই  ম্লান রয়।
যদি মৃত্যু দূতও  বাঁধা  হয়ে আসে
তাহলেও তোমার প্রেমের কাছে
মৃত্যুর ভয়ও তেমন কিছু নয়   
একেবারেই  ভয়হীন তুচ্ছ হয়। 
যদি কাল বৈশাখীর  ঝড়ও হয় 
তবুও তোমার আমার 
 মিলনের কাছেও সেটি 
 একেবারেই  তুচ্ছ ঘটনা হয়।
যদি সারা বিশ্বের সব জলও 
বন্যা হয়ে পৃথিবী ভাসায়
তবে  সেই বন্যাও 
  সরে গিয়ে জল শূন্য হয়,
 ডালোবাসার আনন্দে তা   
শুকিয়ে নিস্প্রভ  মরু ভূমি হয়ে রয়।
যদি আল্পসের সব বরফও 
 গলে গিয়ে নদী হয়ে বয়
তবুও তোমার প্রেমের বরফ 
 গলার চেয়েও তা বিশাল  কিছু নয়।
যদি বিশ্বের সব মানুষও
একজোট হয়ে  আমাদের 
মিলনে বাঁধা হয়ে রয়,
তবে  আমি  সবাইকে হারিয়ে
 তোমাকেই  চাইবো  
আমাদের মিলনে
যেন সে মিলন অমর 
 ইতিহাস হয়ে রয়।
যদি  সমস্ত হিংস্র  জানোয়ার ও
আমায় খেয়ে ফেলার ভয় দেখায়
তবুও আমি সে ভয়কে ক্ষয় ভেবে
তোমাকেই  পাশে পেতে
আগামীর পথে যেতে
আমার ভালোবাসা  যেন 
তোমাতেই টিকে রয়।
যদি আমাকে সারা বিশ্বের 
রাজত্বও এনে তোমাকে
ছেড়েযেতে  বলা হয়
 তবে আমি রাজত্ব ছেড়ে দেবো
তবুও তোমাকে কখনও নয়।
তোমার ভালোবাসার শক্তির কাছে
সারা বিশ্বের সকল শক্তিই 
একেবারেই   ম্লান নিস্প্রভই হয়।
কুর্ণিশ  তোমায় মোর 
ভালো বাসার প্রেয়সী রাণী
তোমার জীবন সত্তার বনে
মধু আহরণের পথ বিচরণে
আমার প্রিয় বিশ্বাসী রাণী
তোমার প্রেম শক্তির সাথে
আমার হৃদয়ের বন্ধন 
 যেন চিরস্হায়ী রয়।
                      == )( ==