কবি-আব্দুল কুদ্দুছ এর এক গুচ্ছ কবিতা। 

প্রকাশিত: ৫:২২ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২১

কবি-আব্দুল কুদ্দুছ এর এক গুচ্ছ কবিতা। 

কবিতার নাম— জীবন পথের শেষ রাতে

আমার জীবন চলার পথ
যতটুকু পাওয়ার ছিলো
সে পথ কি আমাায়
সঠিক নিয়মে চলতে দিলো!
আমি  সে পথেই একাকী   
হেঁটে আজ আমার
গন্তব্যের  শেষ ঠিকানাটা
খুঁজে  পেতেই  আমি  
অহর্নিশ । ছুটছি আর ছুটছি!
আর বড় শ্রান্ত ক্লান্ত হয়ে
ক্রমান্বয়ে ভেংগে  পড়ছি
আমার চলার সেই  
আকাবাকা অমসৃণ রাজ পথে।
আমার জীবন আলোর শুরুটা ছিলো
কতই না রংগিলা  বর্ণিল  
উজ্জল গতিময় ঝলমলে
স্বচ্ছ  সরল মসৃণ
তৈলময় চেতনার বহ্নিশিখাময়।
আর আজ সে আলোর ভোর  
সকাল দুপুর দিবসের 
মধ্যবেলার প্রচন্ডতায়  
ছিলো জৈবিক
হিংস্রতা র বেহিসাবী  
রুক্ষতার পশুচারণ ভূমি।
কিন্ত আজ আমি আমার
জীবনের আলোর 
নিস্প্রভতার অন্ধকারে
ক্রমশঃ ক্ষীনথেকে ক্ষীনতর হয়ে হয়ে 
নিভে যাওয়ার ভীরুতার  
ধুম্রজালে আটকে গেছি।
জানিনা কখন আমার  
সেই জীবন আলো অস্তিত্ববিহীন হয়ে  
অন্ধকারে তলিয়ে আধাঁর রাতের  
গহীন সীমানা খুঁজে নিয়ে  
পথহারা হয়ে হারাবে চিরতরে।
আমার পথের সাথী  
যারা ছিলো সগৌরবে
ভালোবাসার মায়াজালে আমায় 
আটকে  রেখে তারা  
আমার পথে একসাথে হেটেঁ বেড়ালো
আমার জীবন আলোর মিছিলে 
হাসিখুশী রংয়ের চ্ছটায় আমায়
ভুলিয়ে ভালিয়ে আটকে রাখার 
কতনা আয়োজন করেছিলো তারা  
যেন আমার পথের সে আলোটা  
কখনও নিভে না যায়!
কিন্ত তারা পেরেছে কি?
পারছে কি?
পারবে কি  কেউ কোনকালে?
আমার সেদিন শেষের বেলাটাকে 
আর ধরে বেঁধে রাখতে!
আমার চলার পথের  
শেষ ঠিকানার ওপারের  
পাড়িজমানোটাকে
কালের কন্ঠের শেষবাঁশিটাকে  
থামিয়ে রাখতে 
শেষরাতের শেষপথে 
কোনকালে!

কবিতার নাম —-দেশ প্রেমিক মুক্তিযোদ্ধা

দেশের স্বাধীনতার জন্যে লড়ে 
শহীদ বা গাজী হয়েছেন যাঁরা
প্রকৃত মুক্তি যোদ্ধা  হলেন তাঁরা।
পরাধীনতার শৃংখল ভেংগে তাঁরা  
দেশটাকে মুক্ত করেছেন
বাংলার বঞ্চিত  শোষিত জনতাকে  
সন্মানের আসন ওরাঁই দিয়েছেন।
বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের  ভাসনের  
মুক্তি সংগ্রামের আহবানে
সংঘবদ্ধ  হয়ে মুক্তি যোদ্ধের তরে   
প্রস্ততি নিলেন তাঁরা  
বাংলার সবখানে।
লালসবুজের পতাকার   
সমুন্নত স্বাধীনতা আনতে,
প্রতিরোধ যুদ্ধে  পাকি দের 
প্রতি পদেপদে অপমান  
আঘাত হানতে,
মুক্তি বাহিনীর দামাল ছেলেরা  
দেশমাতৃকার সেবক হয়ে 
ঢেলে দিয়েছে বুকের রক্ত   
হায়েনাদের চরম শিক্ষা দিতে   গিয়ে।
মুক্তিযোদ্ধারা কেউ ছিলো মাঠে  
কেউ বা ছিলো ওদের সহায়ক সেনা
যুদ্ধ কালীন  বোদ্ধা জনগনে  
ওদের সবাইকে ভালোকরেই  চেনা।
দেশপ্রেমিক ইশাখাঁ সিরাজ 
প্রীতিলতাদের কাছে মাতৃভূমি   
জীবনের চেয়েও ছিলো প্রিয়,
হাজার বছরের সেরা বাঙ্গালী মুজিব   
ওদেঁর চেয়েও অদ্বিতীয়।
বাঙ্গালী বীরের জাতি ওরা 
হারতে নয় হারাতে জানে
ওঁরা মা মাতৃভূমির জন্যে  
জীবন যৌবনও দান করে  
সময়ের প্রয়োজনে।
বিজাতীয় সাধনায় তাঁরা  
নামেনা কভু
স্বদেশীদের জন্যে তাঁরা  
জীবন বাজী নিতে  
পিছুপা হয়না তবুও।
পরাধীনতার অপমান গ্লানি 
দূরকরে ওঁরা  
আমাদের দিয়েছে স্বাধীনতার  
লাল সবুজের পতাকা,
সাতজন বীর শ্রেষ্ঠের  
সেরা উপহার 
স্বাধীন  মুক্ত দেশের রাজধানী  
আমাদের প্রাণের  নগরী ঢাকা।
বাংলার হারানো গৌরব  
তারাই আনলো ফিরিয়ে
ব্যাথাতুর জনতার ব্যাথার কান্না  
ওরাই দিয়েছিলো তাড়িয়ে।
মুক্তিযুদ্ধের  মহানায়ক ভাই  
টুঙ্গিপাড়ার দামাল  
খোকা মুজিব ভাই
২৬মার্চের স্বধীনতাার ঘোষনায়   
মুক্তিযোদ্ধা  ছেলেরা সবাই
হয়েছিলো উদ্জীবীত 
 বীর সবাই।

কবিতার নাম—-বসন্তের সোনালী ভোর

ফাগুন এসেছে প্রকৃতি জেগেছে
হেসেছে প্রিয়জনের অন্তর
ভালোবাসার দিবস এসেছে
সবার তরে ফাগুন সেজেছে মহাসুন্দর।
ভালোবাসার গোলাপ আজ
যায়গা পেয়েছে ভালোবাসার মানুষের হাতে
প্রিয়জনের আশার বাগানে
পুষ্পফুটেছে বসন্তবরণ প্রাতে।
প্রকৃতির নবসাজে দখিনা মলয়
বহে মৃদুমন্দ ঘন শ্যামল বনে
বর্ণিলসাজে সেজেছে কপোতকপোতী
বাসন্তী লাল গেরুয়া হলুদ বসনে।
শীতের শেষে আগমন বসন্ত ঋতুরাজ
বাংলার প্রতিটি ঘরে
ঝড়াপাতার মর্মর ধ্বনি বাজে
উফসী ধানের চারায় মাঠ গেছে ভরে।
আম্রকানন আমের মুকুলের
মৌমৌ গন্ধে  ভরা
পাকা আতা বরই খাবার ধুম 
 বাংলার প্রতি ঘরে, পড়ে যায় সাড়া।
রাতের আকাশ জোস্না তারায়
ঝলমলে আধোজাগা পুকুরের ঘাট
ধূূলিবালিতে ভরা বাতাস
রোদে পুড়ে খাখা বাংলার মাঠ।
ঋতুরাজ বসন্ত এসেছে
জানান দিয়েছে ভোর কোয়াশায়
হালকা শীতে কাঁপছে বুড়ো
জলকমে পাড় জেগেছে পুকুর নালায়।
ফাগুন বসন্তে আগুন দুপুর 
ঘাম ঝড়ে ক্ষেত মজুরের
বাংলার প্রকৃতি নবসাজে আজ
কৃষাণীর বুকে স্বপ্ন জাগে 
আগামীর সোনালী ভোরের।

কবিতার নাম —-আমি মানুষ

আমি মানুষ বিশ্ব বিধাতার 
ভালোবাসার
আমি মানুষ  মানবতায়  
প্রেম পিয়াসার
আমি মানুষ গল্পকথার 
রূপ কথার
আমি মানুষ নিষ্ঠুরতম   
হিংসা ব্যাথার
আমি মানুষ আভিজাত্য  
ঘৃনাঅহংকারের
আমি মানুষ দ্বন্ধ সংঘাত  
উত্থানপতনের
আমি মানুষ ঝগড়া লড়াই 
যুদ্ধ জয়ের 
আমি মানুষ শান্তি প্রিয় 
বিরাট মন উদারতার
আমি মানুষ সৃষ্টিতে 
নব চেতনায় উদারতার
আমি মানুষ হিংস্র 
বদরাগী  সংকীর্ণতার
আমি মানুষ জীবন সংগ্রামে 
টিকে থাকায় একতার
আমি মানুষ সহস্র মুক্তিযুদ্ধে  
স্বাধীন তার
আমি মানুষ ইমানদার বেইমান
আমি মানুষ মিরজাফর শয়তান
আমি মানুষ তোষামোদী  রংবাজ 
আমি মানুষ ভন্ডচেহারার রসরাজ
আমি মানুষ সত্যের বিদ্রোহী  চেতনার
আমি মানুষ শতজড় ঝঞ্ঝায় 
জ্ঞান সাধনার
আমি মানুষ আর্তপীড়িতের  
সুস্হদেহমনের সেবক
আমি মানুষ জাতির  
দুর্দিনের সাহসী যুবক
আমি মানুষ নতুন উদ্ভাবন 
চির বিস্ময়
আমি মানুষ নবসৃজনের  
উজ্জ্বল  সম্ভাবনায়
আমি মানুষ পাহাড়-পর্বত  মরু
মহাশূন্য বিজয়ী বীর
আমি মানুষ সাগরপাতাল  
গ্রহনক্ষত্রের নমশীর।
আমি মানুষ বিধাতার  
সেরা সৃষ্টি  জীব
আমি মানুষ ভয়ডর পরাজয় 
সবকিছু তেই 
রইনা কখনও নির্জীব 
বিধাতার সবখানেই আমার 
একটাই পরিচয়  
আমি মানুষ
আর এনামেই আমার  
হয় যেন প্রথমও  শেষ
আমার গড়া পৃথিবী
হয়না যেন কখনও  
স্বপ্নের ফানুস।

I’m very lonely,
I am very much inside me.
Rose with great care,
I keep the ‘I’ inside me.

I am a cloud of great pride,
I am very tired alone in the morning.
I think of the hardships every day,
Happiness is not all yours.

I’m in a bad mood,
I am the tearful sun.
Tears float in the rain,
Not all debts are repaid.

I have a lot of memories,
Thousands of sketches across the cover.
I’m very lonely,
Put the ‘I’ inside me.
Posted by
Nazia sultana sharmin

 

কবিতার নাম—হৃদয় ঘরের বাসিন্দা হলে

তুমি যদি আমার ভালোবাসার স্বপ্ন হও
তবে গল্প হয়ে আগামী লিখো
তুমি যদি আমার ভালোবাসার পৃথিবী হও
তাহলে তুমি আমার জীবনকে 
তোমার আয়নায় দেখো।
তুমি যদি আমার হৃদয়ের কবিতা হও
তবে তুমি আমার জীবন প্রদীপ জ্বেলে দিও।
তুমি যদি আমার গানের সূর হও
তাহলে তুমি আমার সূরের সাধনা হইয়ো।
তুমি যদি আমার জীবন স্বপ্নের ভোর হও
তবে তুমি আমার কর্মজীবনের 
শক্তির রবি হেসো
তুমি যদি আমার জীবন  
সম্পদের পুঁজি  হও
তাহলে তুমি পথের খেয়ায় উঠে এসো।
তুমি যদি আমার পথে চলার সাথী হও
তাহলে প্রকৃতির শ্যামল মায়ার তুমি  
আমার অন্ধের ষষ্ঠী  থেকো
তুমি যদি আমার গল্পের নায়িকা হও
তবে একাকী আমার জীবনরাতের ভোরে ছবি এঁকো। 
তুমি যদি আমার জীবন মঞ্চের ডায়ালগ হও
তাহলে মঞ্চে এসে আমার জন্যে  অপেক্ষা  করো
তুমি যদি আমার ভালোবাসার হৃদয়রাণী হও
তবে তুমি ভালোবাসার গানে সূর হইয়ো। 
তুমি যদি আমার মনের গোপন দর্পণ হও
তাহলে তুমি আমার জীবন মায়ার কবিতা লিখো
তুমি যদি আমার জীবন উপন্যাসের নায়িকা হও
তাহলে তুমি আমার প্রেমের  কিছু কবিতা লিখো।
তুমি যদি  আমার মনের ঘরের বাসিন্দা হও
তাহলে তুমি তোমার সকল   ভালোবাসা
আমার দুটি চোখে দেখো
তুমি যদি আমার স্বপ্ন সাধনা হও 
তাহলে তুমি আমার আকাশটাকে 
তোমার হৃদয়ে লিখো।

কবিতার নাম—চির বসন্ত বরণে ভালোবাসা

গ্রীষ্মের বৈশাখে খুঁজেছি যারে 
আপন করে নিতে তাহারে
জৈষ্ঠের গরমের প্রচন্ডতায়
তার শরীরমনের বিষন্নতায়
আসতে পারেনি সে  
আমার কাছে দিন শেষে
দাঁড়াতে পারেনি তাই  
আমার পাশে 
ভালোবেসে।
বর্ষার বর্ষণমুখর আষাঢ়ে প্রাতে
চেয়েছিলাম একান্তে তাহারে  
একা কাছে পেতে,
শ্রাবণের থৈথৈ জলে  
ডুবে যাওয়া পথে 
আসতে পারেনি সে  কৌশলে
আমায় ভালোবাসতে 
সেদিনের  সে রাতে।
শরতের ভরা ভাদর জলের রাতে
শিউলি ফোঁটে  ঝড়ে যাায় 
শিশির ঝড়া প্রাতে,
সে ঝড়া শিউলি কুড়িয়ে  
মালা গেঁথে  দিতে
চেয়েছিনু আমি তারে ভালোবেসে 
জড়িয়ে একা কাছে পেতে।
আশ্বিনের আধো জাগা  
নদী কাশবনে একা এসে
ভালোবেসে মালা গলে নিতে
বলেছিলাম তারে আসতে;
কিন্ত সে আসতে পারেনি  
মালা তুলে নিতে পারেনি
একা ভয়মনে সেই নির্জনে
ভালোবাসার মনে।
হেমন্তের কার্তিকে মৃদু শীতের 
 এক সন্ধ্যায়
বলেছিলাম তারে আমি 
ভালোবাসে কি সে আমায়?
অগ্রহায়ণের পাকা ধানের  
সোনালী মাঠ চিড়ে
এসেছিলো সে আমার কাছে 
 এক৷ কোয়াশা ভোরে;
কিন্ত খেজুরের মিাষ্টি  রসের নেশায় 
আমি ছিলাম তাই,
ঘন কোয়াশার আবছা আলোতে 
আমি তারে চিন্তে পারি নাই।
শীতের পৌষে টাটকা শবজি ক্ষেতে
প্রেয়সী আমার প্রহর গোণে  
একা বসে রাতে;
মাঘের কনকনে শীতে 
মন চেয়েছিলো 
তারে একান্ত পেতে;
ভালোবাসার বন্ধনে জড়িয়ে তাই
 চিরন্তন সাথী করে তারে পেতে চাই।
মনের লুকানো নিরব 
প্রেম ভালোবাসা  
আজকের বসন্ত বরণে
গোলাপ হাতে করবো নিবেদন
 আমার প্রিয়জনে।
আগামীর ভালোবাসা দিবসে 
করবো প্রকাশ আমার সেই 
লুকানো প্রেয়সীর   আশে 
ভালোবাসার যেই।
আমাদের চিরন্তনী ভালোবাসা  
অটুট রইবে জানি চিরকাল
দুজন দুজনার রইবো পাশে 
ভালোবেসে অাবশেষে 
চিরকাল অনন্তকাল।

কবিতার নাম—আজও ভুলিনি  তারে

আজও ভুলিনি তারে
ভালো বাসি আমি যারে
সে ছিলো  আমার জীবন প্রাণ
যার সাথে গেয়েছি প্রিয় সব গান।
যে দিয়েছিলো আমারে  
কিছু স্হৃতি  উপহার
দিয়েছে উজাড় করে
তার ভালোবাসার সেরা
কিছু মূহুর্ত  আদর!
প্রেয়সী বটের কিছু তৃপ্তির 
 ছায়াভরা মায়া
যা আমার ভালোবাসার কায়া।
দিবসের শেষ রবিরশ্মি 
উদারচিন্তার বহ্নিশিখা
আলো আঁধারী দূরু বুকেরপাটা 
যা ভেবে এখনও গাঁয়ে জাগে 
শিহরণ কাঁটা।
তুমি আমারই সেই
ভালো থাকা ভুলে যাওয়া
প্রেয়সী যে সুখের ঘরণী  
পরের এখন!
ভালোবাসার জীবন।
কিন্তু আজও ভুলিনি  
আমি তোমারে
রেখেছি এ মনে
একান্ত আপনার  করে 
একেবারে চিরতরে।
== ০ ==