কক্সবাজার সৈকতের সেই ৫২ অবৈধ স্থাপনা অবশেষে গুড়িয়ে দিল প্রশাসন,আটক ৮।

প্রকাশিত: ১১:২২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৭, ২০২০
আবদুল মান্নান, কক্সবাজার।

কক্সবাজার সৈকতের সেই ৫২ অবৈধ স্থাপনা অবশেষে গুড়িয়ে দিল প্রশাসন, আটক ৮।

সৈকতের ব্যবসায়িদের বাঁধা ও প্রতিরোধের মুখে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপি শ্বাসরূদ্ধ অভিযানে গুঁড়িয়ে দেয়া হলো ৫২টি অবৈধ স্থাপনা।ঐ স্থাপনায় ট্যুরিজম অফিস,রেস্তোরাঁ, শুটকি মাছের দোকান ও ঔষধ ফার্মেসি ইত্যাদির দোকান ছিল।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে উচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী জেলা প্রশাসন ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) এর যৌথ উদ্যোগ এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়।বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে অভিযানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করেন কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সচিব আবু জাফর রাশেদ।
উচ্ছেদ অভিযানে বাধা প্রদান করায় বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির কক্সবাজার জেলা সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম মুকুল সহ ৮ জনকে সদর পুলিশ আটক করেছে বলে জানা যায়।
উক্ত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে গিয়ে প্রথমে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে বাধা দেন। ফলে পুলিশের সাথে তাদের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষ চলাকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) পংকজ বড়ুয়া, কক্সবাজার সদর মডেল থানার নবাগত ওসি শেখ মুনির উল গীয়াস , যমুনা টিভির কক্সবাজার প্রতিনিধি নুরুল করিম রাসেল, সাংবাদিক ইকবাল বাহার চৌধুরীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়।
অভিযানের শুরুতে ব্যবসায়িদের নিরাপদে সরিয়ে যেতে মাইকিং করে জেলা প্রশাসন।  বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে এস্কেভেটর দিয়ে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হলে ব্যবসায়িরা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। মাথায় কাফনের কাপড় পরে বিক্ষোভ করে। মহিলা জড়ো করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। সুগন্ধা সড়কের পূর্ব প্রান্ত দিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।
ব্যবসায়িদের বিক্ষোভ ও বিশৃঙ্খলা থামাতে বাধ্য হয়ে পুলিশ তখন টিয়ারশেল, ফাঁকা গুলি, রাবারবুলেট নিক্ষেপ করে। এসময় প্রায় আধ ঘণ্টাব্যাপী পুলিশ-ব্যবসায়ি উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলে। পুলিশের শক্ত অবস্থান ও প্রতিরোধের মুখে বিক্ষোভকারি দোকানদাররা পিছু হটতে বাধ্য হয়।
এই অভিযানে কক্সবাজার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) পংকজ বড়ুয়া, সদর মডেল থানার ওসি শেখ মুনির উল গীয়াসসহ পুলিশ সদস্য ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসনের পক্ষে কক্সবাজার সদর সহকারি কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ শাহরিয়ার মোক্তার ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) সচিব আবু জাফর রাশেদ উচ্ছেদ কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন। কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান উচ্ছেদ অভিযানের সময় উপস্থিত ছিলেন।
এই উচ্ছেদর মাধ্যমে কক্সবাজার সৈকতে দীর্ঘদিনের টানাপড়েন ও আইনী কার্যক্রম অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটে। ফলে পৃথিবীর সূদীর্ঘ ও বিখ্যাত এই সমুদ্র সৈকত সৌন্দর্য বর্ধনে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের আরো বেশি করে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হবে বলে বিশেষজ্ঞ মহলের প্রত্যাশা।