উচ্চ মাধ্যমিকে অটোপাস : উচ্চ শিক্ষায় ভর্তির স্কোর নির্ধারন হবে কীভাবে ?

প্রকাশিত: ৩:৫৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৩, ২০২০

বিশেষ প্রতিবেদক।

করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে গত ১ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য এইচ এস সি পরীক্ষা স্হগিত করা   হয়েছিল। এরই মধ্যে গত  ৭ অক্টোবর   এক  ভার্চুয়াল     সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা মন্ত্রী   ডা. দিপু মনি এইচ এস সি ও সমমানের    পরীক্ষা   স্হগিতের  বিষয়টি  জানান। সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী আরো জানান, এস এস সি  ও জে এস সি এবং   তাদের।  সমমানের  পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে আগামী ডিসেম্বর মাসে চুড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

 

এই ঘোষণার পর থেকে শিক্ষক,শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা যায়। অভিভাবকদের একটি শ্রেণী মনে করেন, এইচ এস সি’র মত একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় জে এস সি কিংবা জে ডি সি ‘র  জিপিএকে  টেনে নিয়ে আসাকে উচিত হয় নি। কারণ, এইচ এস সি’র কারিকুলামের সাথে জে এস সি’র কারিকুলামের কোন মিল নেই। তাছাড়া এই সময় বাচ্চারা যথেষ্ট ছোট থাকে। ক্যারিয়ার সম্পর্কে খুব কম বাচ্চাই সচেতন থাকে।

 

আবার অনেক অভিভাবক ও শিক্ষার্থী  মনে করেন, এই করোনাকালীন সময়ে সাড়ে ১৩ লাখেরও বেশি পরীক্ষার্থী নিয়ে এইচ এস সি ‘র মত একটি বড় পরীক্ষার আয়োজন করা একটি ঝুকিপূর্ণ বিষয় ছিল। পরীক্ষার্থীদের কেউ যদি করোনায় আক্রান্ত হত, তাহলে যথেষ্ট সমালোচনা হত। তাই, সে বিবেচনায় পরীক্ষা বাতিল করার সিদ্ধান্তটিকে তারা ইতিবাচকভাবেই দেখছেন।

 

সামনে এখন আরো বড় একটি চ্যালেঞ্জ হল উচ্চ শিক্ষায় ভর্তি।জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে এস এস সি ও এইচ এস সি ‘র জিপিএ’র ভিত্তিতেই ভর্তি করা হয়। কোন ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হয় না।

 

অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল ভর্তির ক্ষেত্রে একটি ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হয়। ভর্তি পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর ও এস এস সি এবং এইচ এস সি’র জিপিএ — এই তিনটির নম্বর একসাথে করে স্কোর নির্ধারন করা হয়।  ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি কলেজ থেকে এইচ এস সি পরীক্ষার্থী ছিল  ফারহানা তামান্না।  সে হতাশা প্রকাশ করে বলে, জে এস সি ও এস এস সি পরীক্ষায় জিপি এ ৫.০০ পায় নি। এইচ  এস সি তে একটি ভালো ফলাফলের আশায় দিন রাত পরিশ্রম করেছি। কিন্তু পরীক্ষা না হওয়ায় যে ফলাফল পাব তাতে ইউনিভার্সিটি ভর্তি পরীক্ষায় সুবিধাজনক অবস্হায় থেকে পরীক্ষা দিতে পারব না। কারণ ভর্তির স্কোর নির্ধানে এস এস সি  ও এইচ  এস সি’র  ফলাফল কাউন্ট করা হবে। কতৃপক্ষ যদি ভর্তি পরীক্ষার নম্বরকেই ভিত্তি হিসেবে ধরে, তাহলে একটু মানসিক চাপমুক্ত থেকে পরীক্ষা দিতে পারব।

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহিলা কলেজ থেকে সন্তান এইচ এস সি পরীক্ষার্থী ছিল এমন একজন অভিভাবক সুলতানা বীথি।  তিনি বলেন, আমার মেয়ে পিইসি, জে এস সি ও এস এস সি — এই তিনটি পরীক্ষায় প্রাপ্ত জিপিএ সমান নয়। প্রতিটি পরীক্ষায়ই তার উন্নতি হয়েছে। সে জিপিএ ৫.০০ পাওয়ার বিষয়ে  আশাবাদী ছিল।দুটি পরীক্ষার জিপিএ গড় করে যে রেজাল্ট দেয়া হবে,তাতে আমার মেয়ে নিশ্চিত ক্ষতিগ্রস্হ হবে।  এখন শিক্ষা মন্ত্রনালয় যদি সিদ্ধান্ত নেয়, ভর্তি পরীক্ষার নম্বরের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির যোগ্যতা নির্ধারন করবে, তাহলে তার মত এমন হাজারো পরীক্ষার্থী তাদের ক্ষতি পোষানোর সুযোগ পাবে।

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারী কলেজ থেকে ২০১৯ সালে পাস করা একজন শিক্ষার্থী ফাহিম ( ছদ্মনাম)।  সে একটি ভিন্ন সমস্যার কথা জানায় ‘দৈনিক আমাদের ফোরামকে।’ তার জে এস সি ও এস এস  সি — দুটো পরীক্ষাতেই জিপিএ – ৫.০০ পেয়েছেন।  কিন্তু এইচ এস সিতে ৪.৭০ এসেছিল।তার টার্গেট ছিল মেডিকেল। গত বছর অল্পের জন্য মেডিকেলে চান্স হয় নি। এবার আবারও সে প্রস্তুতি নিচ্ছে মেডিকেলে ভর্তির জন্য। দ্বিতীয়বারের পরীক্ষার্থী হিসেবে এমনিতেই তাকে (১০ নম্বর) মাইনাস মার্কিং নিয়ে পরীক্ষা দিতে হবে। এবার অটো পাসের ফলে জিপিএ – ৫.০০ প্রাপ্তির ছড়াছড়ি থাকবে। স্বাভাবিকভাবেই প্রতিযোগীতায় অনেকটাই পিছিয়ে পড়ব। তাই, সরকারে কাছে আবেদন অর্জিত জিপিএ বাদ দিয়ে শুধু ভর্তি পরীক্ষার নম্বরের ভিত্তিতেই যেন মেডিকেলে ভর্তির ব্যবস্হা করা হয়।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে এমন অন্ততঃ ১০ জন শিক্ষার্থীর সাথে কথা হয় এ বিষয়ে। তারা প্রত্যেকে একই সুরে বলেন, এ বছরের উচ্চ শিক্ষায় ভর্তি শুধুমাত্র ভর্তি পরীক্ষার নম্বরের ভিত্তিতেই হওয়া উচিত।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমকে  বলেন, কীভাবে ভর্তির কাজটি হবে, সেটি এখনই বলা সমীচীন হবে না। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি সমন্বিত পদ্ধতিতেই সব ধরনের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা নিতে পারব। সেই পরীক্ষাগুলো কীভাবে হবে, গুচ্ছ পদ্ধতি কেমন হবে, তখনকার কোভিড পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কারণ, এখনও তিন মাস বাকি আছে।’

লেখক : শিক্ষক , কলামিস্ট ও নিউজ এডিটর।