ইনডেক্সধারী প্রার্থীদের প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন/রায় বিশ্লেষণ। 

প্রকাশিত: ৫:৪৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৯, ২০২০

ইনডেক্সধারী প্রার্থীদের প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন/রায় বিশ্লেষণ। 

ইনডেক্সধারী প্রার্থীদের বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন সংক্রান্ত মহামান্য হাইকোর্টের রায় ও আদেশ নিয়ে দু’কলম লিখছি। অনেকে উক্ত রায়’কে গভীরভাবে পর্যালোচনা না করে ভিন্নভাবে উপস্থাপন ও কেউ কেউ বিকৃতি করতেছে!!! জাকির হোসেনসহ ১১১ জনের রীটের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ ৬০ দিনের মধ্যে বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে অনিবন্ধিত ইনডেক্সধারীদের আবেদন অপশন খুলতে হবে যা এখনো চলমান। আবার হাবিব বাহার স্যারের করা ৭১ জনের রীটের চুড়ান্ত রায়। উভয় মামলার বিষয়বস্তু ছিল সেইম এমপিও নীতিমালা ১২ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে ইনডেক্সধারী প্রার্থীরা বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করতে পারবে  সেক্ষেত্রে ২ বছর পর্যন্ত ইনডেক্স বহাল থাকবে,। অভিজ্ঞতা গণনা হবে। বাস্তবায়ন।
চলমান প্রক্রিয়ায় নিবন্ধিতদের সাথে অনিবন্ধিতদের প্রতিষ্টান বদলের সুযোগ দেয়া অসম্ভব। কারন অনিবন্ধিতদের মার্কশীট বা নাম্বার  নেই। তাহলে কিসের ভিত্তিতে অনিবন্ধিত ইনডেক্সধারী শিক্ষকদের  নিবন্ধনধারী ইনডেক্সধারী শিক্ষকদের সাথে প্রতিযোগিতা ও মূল্যায়ন, বাছাই ও পদায়ন করবে? বাধ্য হয়ে নীতিমালা পরিবর্তন করে বদলি করতে হবে, ইনডেক্স টু ইনডেক্স (নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত) সুনির্দিষ্ট একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন সুযোগ দিতে হবে। তাই এটিকে যেভাবেই সংজ্ঞায়িত করিনা কেন এটির বদলির আদেশ।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে অনিবন্ধিত ইনডেক্সধারী প্রার্থীদের আবেদন অপশন খোলা যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল NTRCAকে, সেটা বাস্তবায়ন হলে বদলির চাহিদা পূর্ণ হবে কারণ কান টানলে মাথা আসে। যেমন: অতীতে ম্যানেজিং কমিটির অধীনে নিয়োগ থাকাকালীন সময় নিবন্ধিত ইন্টেক্স দাড়ি এবং অনিবিন্ধত ইনডেক্সধারী শূন্যপদে নিয়োগের জন্য আবেদন করত, প্রার্থী প্রাতিষ্ঠানিক লিখিত পরীক্ষা ও ভাইভা উত্তীর্ণ হওয়ার পর নিয়োগ পেত। কিন্তু Ntrca যদি রায় বাস্তবায়ন করে তাহলে উভয় ইনডেক্সধারী প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষা এবং ভাইবা পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ নেই।  ফলশ্রুতিতে অনিবন্ধিত ইনডেক্সধারী শিক্ষকদের প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন সুযোগ দিতে হলে বদলি নীতিমালা করা ছাড়া আর কোন পথ নেই। বলা যেতে পারে অনিবন্ধিত ইনডেক্সধারীদের আদেশের উপর ভিত্তি করে উভয় ইনডেক্সধারী প্রার্থীরা বদলির স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে। এখন দেখতে হবে কর্তৃপক্ষ উক্ত আদেশ কতটুকু বাস্তবায়ন করে আংশিক নাকি সম্পূর্ণ। সম্পূর্ণ রায় বাস্তবায়নের জন্য সোচ্চার থাকতে হবে, নিয়মিত আলোচনা আইনি পদক্ষেপ ও আন্দোলন অব্যাহত রাখতে হবে চুড়ান্ত বিজয়ের আগ পর্যন্ত।
বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে অগ্রাধিকার দিলে আলাদা বিভাগীয় সার্কোলার দিতে হবে নতুবা নতুন চাকরি প্রার্থীদের সাথে সুযোগ দিলে বিভাগীয় প্রার্থী ইনডেক্সধারী হিসেবে বিভাগীয় কোটা কিংবা % ভিত্তিতে অধিকাংশ পদ দখল করে বসবে ফলশ্রুতিতে নতুন চাকরি প্রার্থীরা বেশি নম্বর থাকলেও সুযোগ সীমিত।  ইনডেক্সধারী প্রার্থীদের যেখানে  অতিউৎসাহী কিছু শিক্ষক বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ না করে বদলির সমার্থক শব্দ প্রয়োগ করতেছে।অনেকে আবার নেগেটিভভাবে পজিটিভ উচ্চারণ করে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করছে। বদলি কার্যক্রম শুরু হবার আগেই বিভিন্ন জটিলতা ও ভয় দেখিয়ে কর্তপক্ষকে বদলিতে পাহাড়সম সমস্যার সম্মুখীন হবে এরকম  ভুল বুঝিয়ে থামানোর চেষ্টা চলছে।
 NTRCA অধীনে শিক্ষক নিয়োগের দায়িত্ব যাওয়ার পরে কেউই NTRCA সুপারিশের বাহিরে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা নেই,সেই সুপারিশ না মানারও সুযোগ নেই। উদাহরণ :Ntrca  সুপারিশ করার পরে প্রতিষ্ঠান বা কমিটি সনদ যাচাই করে নিয়োগপত্র ইস্যু করেন। যদি সনদ কিংবা অন্যান্য যোগ্যতা  সমস্যা থাকে, তাকে নিয়োগ না দিলেও পুনরায় NTRCA ২য় মেধাতালিকা থেকে আরেকজন পাঠানো হলে অনুরূপ প্রক্রিয়া নিয়োগপত্র ও যোগদান করাতে বাধ্য অন্যথায় প্রতিষ্ঠান প্রধানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও এমপিও বাতিল। তাই ইনডেক্সধারী প্রার্থী বদলি হলে বা পরিবর্তন সুপারিশপ্রাপ্ত হলে প্রতিষ্ঠান গ্রহণ নাও করতে পারে বলে দিবাস্বপ্ন দেখছে, বিভ্রান্ত করছে।কারণ বদলি সুপারিশ/আদেশপ্রাপ্ত ব্যাক্তি আসার সুযোগ হলে কিছু প্রধান মনে করেন নিজের প্রতিষ্ঠান (পৈতৃক সম্পত্তি) দখল হয়ে যাবে!!
ইনডেক্সধারী বলতে শুধু শিক্ষক নয়,শিক্ষক কর্মচারী ও প্রতিষ্ঠান প্রধানসহ এমপিওভুক্ত অন্যান্যরা। এমএলএম থেকে অধ্যক্ষ পর্যন্ত সবাই যেন সুস্পষ্ট নীতিমালার মাধ্যমে সরাসরি বদলি হতে পারে এরকম একটি ফাইল মহামান্য হাইকোর্টে জমা আছে যা আদালত কার্যক্রম ফিজিকালি খোলার পরে আদেশ জারি হবে ইনশাআল্লাহ।
 অতিতেও ভাল কাজের সমালোচনা ছিল থাকবে কারণ বদলি প্রথা সম্পুর্ন চালু হলে  আল্লাহ তাদের হেদায়েত করুক আমিন।   দোয়া করবেন যেন রায় নির্দেশনা অনুসারে সম্পুর্ন  বাস্তবায়ন হয়, আংশিক যেন না হয়। কারণ আংশিক বাস্তবায়ন হলে জটিলতা থেকে যাবে। শুরু যখন করেছি, শেষ করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ।
( প্রয়োজনে, গঠনমূলক আলোচনা সমালোচনা ও মন্তব্য করতে পারেন )
ধন্যবাদান্তে,   মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম,
মুখপাত্র,    এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি বাস্তবায়ন কমিটি।