অনতিবিলম্বে চীনের উইঘুর মুসলিমের উপর নির্যাতন ও গণহত্যা বন্ধ করুন

প্রকাশিত: ১০:২১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৭, ২০২১

নুরুল কবির আরমান,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধিঃ আজ ২৭ শে জানুয়ারী বিশ্ব গণহত্যা দিবস উপলক্ষ্যে চীনের উইঘুর মুসলিম ভাই বোনদের স্বতন্ত্রতার লড়াই উপলক্ষ্যে ২৫০ কোটি মুসলিম জাতির কর্ণধার ইমাম ও আলেমদেও ঐক্য ও করণীয় শীর্ষক আলোচনা সভা হাটহাজারীর হোটেল জামানের হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— মেখল হামিউচ্ছুন্নাহ মাদরাসার সিনিয়র মুফতী, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক, আল্লামা মুফতী মোহাম্মদ আলী কাসেমী সাহেব। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,মেখল হামিউচ্ছুন্নাহ মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষক, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক, মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়জী সাহেব।

বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, হেফাজতের হাটহাজারী উপজেলা শাখার সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং হাটহাজারী পৌর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মাদ আসাদ উল্লাহ, মুফতী মোঃ আলী আকবর ফারুকী, মাওলানা মুফতী জাকারিয়া, মাওলানা মুফতী জুনাইদ আহমেদ, মাওলানা এনামুল হাসান ফারুকী, মাওলানা হাবিব আনওয়ার প্রমুখ।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে মহাগ্রন্থ আল কুরআনের সূরা রা’আদ এর ১১নং আয়াতের রেফারেন্স দিয়ে বলেন, “আল্লাহ কোন ব্যক্তির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যে পর্যন্ত না তারা তাদের নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন না করে।” আজ চীনের মুসলিমরা চরমভাবে নির্যাতিত, নিষ্পেসিত, নিপীড়িত। মুসলিম মা—বোন ও শিশুদের আর্ত চিৎকারে আকাশ—বাতাস ভারি হয়ে যাচ্ছে। এমন কোন নির্যাতন নেই, যা মুসলিমদের উপরে চালানো হচ্ছে না। চীনের উইঘুর প্রদেশে বিশ লাখেরও বেশি মুসলিমদেরকে বন্দীশিবিরে আটকে রেখে নির্যাতন চালাচ্ছে চীন সরকার। মুসলিম হওয়া সত্বেও নামায, রোযা, কোরআন তিলাওয়াত, ইসলামী জ্ঞান অর্জন, পর্দা, ধর্মীয় অনুষ্ঠান কিছুই পালন করতে পারছেনা তারা। পরিবারের কাছ থেকে শিশুদেরকে জোরপূর্বক কেড়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় মদদে খুন—ধর্ষণ চালানো হচ্ছে অসহায় মা—বোনদের উপর। মুসলিম তরুণীদেরকে জোরপূর্বক ১০০/২০০ মাইল দূরে ভিন্নধর্মী পুরুষদের সাথে মিল—কারখানায় চাকুরী করতে বাধ্য করা হচ্ছে। ফলে তাদের সতীত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছে প্রতিবেশীরা। এতেকরে পুরুষরা ওই তরুণীদেরকে বিবাহ করতে অনীহা দেখাচ্ছে। ফলে মুসলিম পরিবারগুলোর মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে। চীনসহ সারাবিশ্বের নির্যাতিত মুসলমানদের রক্ষায় আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

আলোচনা সভায় মুসলিম বিশ্বের প্রতি বেশকিছু দাবী জানিয়েছেন বক্তারা :
১। অনতিবিলম্বে চীনের উইঘুর মুসলিমদের উপর নির্যাতন বন্ধ করা হোক।
২। বিশলাখ নির্যাতিত বন্দী মুসলমানদেরকে মুক্তি দেওয়া হোক।
৩। আন্তর্জাতিক আদালতে চীনের মানবতাবিরোধী এই অপরাধের বিচার করা হোক।
৪। নির্যাতনের প্রকৃত তথ্য ও চিত্রগুলো প্রকাশ করা হোক।
৫। বিশ্বের সকল মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর ঐক্যবদ্ধতার মাধ্যমে চীনের পণ্য বর্জন করা হোক।
৬। ওআইসি কতৃর্ক প্রতিবেদন জারী করে চীন সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করা হোক।
৭। গত ২০শে জানুয়ারী মঙ্গলবার নতুন শপথ নেওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও চীনের জিংজিয়ান অঞ্চলে উইঘুর মুসলিম সংখ্যালঘুদের উপর নিপীড়ন ও গণহত্যার প্রতিবাদে অভিযোগ করে বলেছেন— “চীন সরকার নিপীড়ন ও গণহত্যার মাধ্যমে উইঘুর সম্প্রদায়কে নিমূর্ল করার তৎপরতা চালাচ্ছে।” আলোচকগণ এই বক্তব্যকে সাধুবাদ জানিয়ে চীনের বিরুদ্ধে অনতিবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ ও দাবী জানান।